
মানবসভ্যতার ইতিহাসে ব্যক্তি ও সমষ্টির সম্পর্ক সর্বদাই এক গভীর দ্বান্দ্বিকতার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তি যখন একক ও স্বতন্ত্র, তখন সে বিবেক, যুক্তি ও নৈতিক দায়বোধের অধীন থাকে; কিন্তু সেই একই ব্যক্তি যখন উন্মত্ত জনতার অংশে পরিণত হয়, তখন তার ভেতরের সভ্য ও বিবেকবান সত্তা অনেকাংশে বিলীন হয়ে যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর ফরাসি সমাজমনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ ল্য বোঁ তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘দ্য ক্রাউড : আ স্টাডি অব দ্য পপুলার মাইন্ড’-এ (১৮৯৫) দেখিয়েছেন, জনতা সংঘবদ্ধ হলে তাদের মধ্যে এক ‘সমষ্টিগত মন’ জন্ম নেয়, যেখানে ব্যক্তির স্বকীয় বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং সে অবচেতনভাবে আবেগ, আবেশ ও অনুকরণের স্রোতে ভেসে যায়। ল্য বোঁর ভাষায়, জনতা যুক্তি দিয়ে নয়, অনুভূতি দিয়ে পরিচালিত হয়; আর সেই অনুভূতি মুহূর্তেই অদম্য হিংস্রতায় রূপান্তরিত হতে পারে। এই কারণেই একজন সুসভ্য মানুষও জনতার মধ্যে মিশে গিয়ে এমন কাজ করে বসে, যা একক অবস্থায় সে কল্পনাও করতে পারত না।
এই তাত্ত্বিক ভিত্তিকে আরও সম্প্রসারিত করেছেন অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড, যিনি তার ‘গ্রুপ সাইকোলজি অ্যান্ড দ্য অ্যানালাইসিস অব দ্য ইগো’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, সমষ্টির ভেতরে ব্যক্তির ‘অহং’ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ আনুগত্যে আত্মসমর্পণ করে। নোবেলজয়ী সাহিত্যিক এলিয়াস কানেত্তি তার ‘ক্রাউডস অ্যান্ড পাওয়ার’ গ্রন্থে জনতার এই ধ্বংসাত্মক প্রবণতাকে বিশ্লেষণ করে বলেছেন, জনতা মাত্রই সীমা অতিক্রম করতে চায় এবং তার ভেতরে ধ্বংসের এক আদিম তাড়না কাজ করে। স্প্যানিশ দার্শনিক ওর্তেগা ই গাসেত তার ‘দ্য রিভোল্ট অব দ্য ম্যাসেস’ গ্রন্থে এই উন্মত্ত জনসমষ্টির উত্থানকে আধুনিক সভ্যতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই উন্মত্ত জনতার শাসনকেই বলা হয় ‘মবক্রেসি’ —যেখানে আইন নয়, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠের তাৎক্ষণিক আবেগ ও পেশিশক্তিই চূড়ান্ত বিচারক হয়ে ওঠে।
তবে ‘মব’ ও ‘জনগণ’- এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে, যা জার্মান-মার্কিন দার্শনিক হানা আরেন্ট তার ‘দ্য অরিজিনস অব টোটালিটারিয়ানিজম’ গ্রন্থে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, জনগণ হলো সংগঠিত, দায়িত্বশীল ও লক্ষ্যাভিমুখী সমষ্টি; আর মব হলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর উচ্ছিষ্ট ও বিপথগামী অংশের এক বিকৃত সংমিশ্রণ, যাদের স্বৈরশাসকেরা নিজেদের হীন স্বার্থে ব্যবহার করে। ইতালীয় রাষ্ট্রচিন্তাবিদ নিকোলো মেকিয়াভেলি বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন, জনতা চঞ্চল ও খেয়ালি—মুহূর্তেই তারা কাউকে মাথায় তুলে নেয়, আবার মুহূর্তেই পদদলিত করে। অন্যদিকে প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী ইবনে খালদুন তার ‘আসাবিয়্যাহ’ তত্ত্বে দেখিয়েছেন, গোষ্ঠীবদ্ধতা একদিকে সভ্যতা নির্মাণ করে, আবার অপব্যবহৃত হলে তা-ই সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। সুতরাং মব একটি দ্বিমুখী তরবারি—ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ালে তা গণজাগরণ, আর অন্যায়ের হাতিয়ার হলে তা সভ্যতার অভিশাপ।
বাংলাদেশে এই প্রবণতার দুটি রূপ লক্ষণীয়— একটি কাঙ্ক্ষিত বা স্বতঃস্ফূর্ত গণক্ষোভ, অন্যটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা জনগণের কাছে গণধিকৃত এবং হত্যা, রাহাজানি কিংবা স্পষ্ট অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ স্বাভাবিক। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বাপর সময়ে স্বৈরাচার ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনতার এই ক্ষোভের একটি সামাজিক ও নৈতিক বৈধতা আছে।
ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কিছু দুষ্কৃতকারী উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সুযোগের কিছু অপব্যবহার হয়েছে। তারা বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও তাদের বাসভবনে চড়াও হয়ে লোক জড়ো করে অন্যায়ভাবে কাউকে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করছে এবং মানুষকে প্রকাশ্যে অপমান-অপদস্থ করছে। গুলশানের কিছু বাড়িঘরসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা একটি সভ্য সমাজে কখনোই কাম্য হতে পারে না। একজন ব্যক্তির অপরাধকে তার যথাযথ প্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে; দেখতে হবে সে সত্যিই হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ বা লুটপাটের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত, নাকি কেবল একটি পদে আসীন থেকে দুর্বলতা বা মেরুদণ্ডহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে; আর তাই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে উচ্ছৃঙ্খলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
ইসলামী ন্যায়শাস্ত্রে বিচারপ্রক্রিয়ার এই মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, কোনো সংবাদ যাচাই না করে যেন কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হয় এবং শত্রুতার কারণেও যেন কেউ ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না হয়। নবী মোহাম্মদ সা:-এর শিক্ষা হলো, নিছক অভিযোগ কখনো অপরাধের প্রমাণ নয়; প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব অভিযোগকারীর, আর সন্দেহের সুবিধা পাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি। একজন মানুষকে প্রকাশ্যে অপমান, প্রহার কিংবা তার সম্মানহানি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সুতরাং মব করে কাউকে একতরফাভাবে দোষী সাব্যস্ত ও শাস্তি প্রদান কেবল রাষ্ট্রীয় আইনেরই নয়, ধর্মীয় ও নৈতিক বিধানেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যে সমাজে ব্যক্তির সম্মান ও বিচার পাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকে না, সে সমাজ কখনো প্রকৃত অর্থে সভ্য হতে পারে না।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কদর্য ও দুঃখজনক ঘটনা হলো, শান্তিতে নোবেলজয়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক মবের শিকার হতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে অশালীন স্লোগান দিচ্ছে ও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। এটি সম্ভবত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতাকর্মীদের স্বভাবসুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ, যা অতীতেও তাদের দীর্ঘ শাসনামলে প্রকাশ্যে মানুষকে অপমান, প্রহার ও গুমের মধ্য দিয়ে প্রকটিত হয়েছে। এর আগে ইতালিতেও একই কায়দায় একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে অপদস্থ করার অপচেষ্টা হয়েছিল। দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা বিষয়টিকে লিড নিউজ করেছে, যা অত্যন্ত যৌক্তিক ও যথার্থ।
মনে রাখা প্রয়োজন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও নোবেলজয়ী, যার ‘ক্ষুদ্রঋণ’ ধারণা বিশ্বের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের জীবনে আলো জ্বেলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা নিয়েই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সরকারের অভ্যন্তরীণ সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে রাজনীতি কিংবা গঠনমূলক সমালোচনা হতেই পারে— গণতন্ত্রে তা স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর; কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই। কারণ এতে কেবল একজন ব্যক্তি অপমানিত হন না, বরং বিশ্বের দরবারে গোটা বাংলাদেশ ও তার জনগণ হেয়প্রতিপন্ন হয়।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণহীন হলে তা কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যায় মাত্র একশ দিনে উন্মত্ত জনতা প্রায় আট লাখ মানুষকে চাপাতির আঘাতে হত্যা করেছিল— যেখানে প্রতিবেশী প্রতিবেশীকে, সহকর্মী সহকর্মীকে নিধন করেছে কেবল সঙ্ঘবদ্ধ উন্মাদনার বশে।
জার্মানিতে নাৎসি আমলে ‘ক্রিস্টালনাখ্ট’ নামে পরিচিত সেই রাতে উন্মত্ত জনতা ইহুদিদের দোকানপাট, উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, যা কুখ্যাত হয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যের যুগে কৃষ্ণাঙ্গদের বিনা বিচারে ‘লিঞ্চিং’ (lynching) বা গণপিটুনিতে হত্যা করার যে নৃশংস ইতিহাস রয়েছে, তা-ও মব সংস্কৃতিরই এক কলঙ্কিত অধ্যায়। এমনকি ফরাসি বিপ্লবের ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ উন্মত্ত জনতা যেভাবে বিনাবিচারে অগণিত মানুষকে গিলোটিনে পাঠিয়েছিল, তা-ও স্মরণ করিয়ে দেয়— যুক্তিহীন সংঘবদ্ধ উন্মাদনা কিভাবে একটি জাতিকে নৈতিক অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে পারে।
আধুনিক যুগে মব আরেকটি ভয়ঙ্কর রূপ খুঁজে পেয়েছে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভার্চুয়াল জগতে। সমাজমনোবিজ্ঞানীরা এই প্রবণতাকে ‘আত্মপরিচয়হীনতা’ বলে অভিহিত করেন, যেখানে নামপরিচয়হীনতার আড়ালে ব্যক্তি তার দায়বোধ হারিয়ে ফেলে এবং সহজেই নিষ্ঠুর ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একটি যাচাইহীন গুজব কিংবা বিকৃত ভিডিও মুহূর্তেই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে ‘ডিজিটাল মব’ তৈরি করে, যা বাস্তবের মবের চেয়েও দ্রুত ও সর্বব্যাপী। প্রফেসর ইউনূসকে ঘিরে ঘটে যাওয়া বিমানবন্দরের ঘটনাটিও এই ভার্চুয়াল উন্মাদনার মাধ্যমেই নিমেষে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সমর্থনকারীদেরকে বিষয়টি নিয়ে অপরাধবোধের বদলে গর্ববোধ করতে দেখা গেছে। ফলে আজকের মব আমাদের হাতের মুঠোফোনেও সমান সক্রিয় ও সর্বগ্রাসী।
মব সংস্কৃতির নেতিবাচক রূপ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের স্কুলশিক্ষক কিংবা কোনো সম্মানিত ব্যক্তিকে পছন্দ না হলেই মব তৈরি করে অপদস্থ করা হচ্ছে। কোথাও আবার চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কিশোরদের ওপর চড়াও হয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার এই প্রবণতা দেশের ভাবমূর্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। ফরাসি চিন্তাবিদ আলেক্সি দ্য তকভিল যাকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরতন্ত্র’ বলে সতর্ক করেছিলেন, মব সংস্কৃতি যেন তারই এক বিকৃত ও সহিংস সংস্করণ হয়ে উঠছে।
এই অন্ধকার থেকে উত্তরণের পথ একমুখী নয়। একদিকে সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী মবের আড়ালে দায়মুক্তির সুযোগ না পায়। অন্যদিকে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজকে সচেতনতার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে, যেন নাগরিকেরা আবেগের বদলে বিবেক দিয়ে বিচার করতে শেখে। সর্বোপরি প্রয়োজন এমন এক ‘জনসংস্কৃতি’ ও মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক পরস্পরের মর্যাদাকে সম্মান করতে শিখবে। উন্মত্ত জনতার হাতে ন্যায়বিচারের ভার তুলে দিলে সভ্যতা কখনো টেকে না; বরং তা সমাজকে বর্বরতার এক অন্তহীন চক্রে আবদ্ধ করে ফেলে। প্রফেসর ইউনূসের প্রতি এই হেনস্তা তাই কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়— এটি গোটা জাতির বিবেকের কাছে এক তীব্র প্রশ্ন। সভ্য জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে টিকে থাকতে হলে আমাদের মবের সংস্কৃতি নয়, আইন ও মর্যাদার সংস্কৃতিকেই আঁকড়ে ধরতে হবে।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








