আরিফুল হক চৌধুরী, পোশাকশিল্প, মজুরি
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নয়া দিগন্ত

নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মালিকপক্ষ থেকে প্রতিনিধি তালিকা পাওয়া গেছে। শ্রমিকপক্ষ থেকে তালিকা পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

Advertisement

মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শ্রমিকপক্ষ, মালিক পক্ষ এবং সরকারপক্ষের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৯৬তম সভা এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি বিষয়ক টিসিসি)-এর ২৫তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুর রহমান তরফদার।

চলমান শ্রম অসন্তোষ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আমি মালিকপক্ষকে আহ্বান জানাই যেন মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা মজুরি পরিশোধ করা হয়। একইসাথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বলব আন্দোলনের নামে পথ রোধ করে কোনোভাবেই যেন জনভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। কোনো সমস্যা থাকলে তা কারখানার অভ্যন্তরে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষ মিলে আলোচনা করে সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য বা অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে যদি কেউ চেষ্টা চালায়, তবে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধি কেউ তা মেনে নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছি, প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্বের বাইরে থেকে যারা প্ররোচনা জোগাচ্ছেন এবং নন-ইস্যুকে ইস্যু বানাচ্ছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। তৃতীয় পক্ষ এসে শিল্প খাতে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

সভায় বক্তব্য প্রদানকালে শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা যৌথভাবে কাজ করছেন এবং শিল্প পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চলছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং গ্যাস-জ্বালানি সঙ্কট সমাধানে সরকারের সাথে আলোচনা চলছে।

আরেক শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে টিসিসি সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম গাজীপুর ও কালিয়াকৈরের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতির দ্রুত ও টেকসই সমাধান দাবি করেন।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একই মনোভাব পোষণ করলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। তিনি শিল্প কারখানার কোনো ধরনের ক্ষতি না করা এবং সরকারকে বিব্রত না করার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোখতার আহমেদ, বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।