কেন্দ্রীয় কারাগার
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু। নয়া দিগন্ত

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে মোহাম্মদ মেহেদী হাসান কাজী (১৮) নামের এক হাজতি অসুস্থ হলে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়।

Advertisement

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কারারক্ষী মো: সাহাবুল ইসলাম জানান, মেহেদী হাসান কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে রেফার করলে নতুন ভবনের নিচতলায় হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আবার জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, নিহত মেহেদী হাসান কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। তার হাজতি নম্বর ১০৭১৮/২৬। মেহেদী হাসান কামরাঙ্গীরচর থানার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার উত্তর কাজীপাড়া গ্রামে। তিনি মোহাম্মদ ফারুক কাজীর ছেলে।

তিনি জানান, আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য কর্তব্যরত কারারক্ষী ও আনসারদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে পরে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত মেহেদী হাসানের ভাই সাঈদ কাজী জানান, ‘আমার ভাই এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। গত সাত মাস আগে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সে কারাবন্দি হয়। কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা (ষড়যন্ত্রমূলক) ধর্ষণ মামলা করা হয়। পরে পুলিশ আমার ভাইকে গ্রেফতার করে সরাসরি কোর্টে পাঠায় এবং সেখান থেকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আজ কারাগারে আমার ভাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়। আমরা ছয় ভাই এক বোন।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো: হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।