
দেশে ইন্টারনেট সেবার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সাথে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) অব্যবহৃত সম্পদ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সেবার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই সাথে ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং দেশের জনগণের জন্য আরো নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
ইন্টারনেটের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে বিটিসিএলের অব্যবহৃত সম্পদ কার্যকর করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ওয়াই-ফাই সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসে। বিমানবন্দরগুলোতে ওয়াই-ফাই সেবার পাশাপাশি ভূমি সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে তথ্য দেয়া হয়। ডাটা তরঙ্গ, টেলিযোগাযোগ শিল্প এবং ওয়াই-ফাই সেবার চলমান কার্যক্রমের বিবরণও উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর জনবল, কার্যাবলী, উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও কমিটিকে অবহিত করা হয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বৈঠকে। সাইবার সিকিউরিটি জোরদারের পাশাপাশি দেশের শিশু-কিশোর এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রকল্পগুলো আরো গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন ও সেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ডাক বিভাগের ডাটাবেজে দেশের সব নাগরিকের ঠিকানা সংরক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পার্সেল সেবার পরিমাণ বৃদ্ধির তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কলসেন্টারের কার্যক্রম আরো কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানো এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সাথে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্যও কমিটি সুপারিশ করেছে। গ্রাহকদের আরো উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে টেলিটকের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার কথা বলা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মো: আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মো: তমিজ উদ্দিন, মো: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, মানসুরা আক্তার, মো: কেরামত আলী এবং সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরসমূহের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








