হজ
কাবায় তাওয়াফ করছেন হাজিরা। ফাইল ছবি

২০২৭ সালের হজের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী হজে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ অবস্থায় সৌদি সরকারের কাছে আরো ২০ হাজার হজ কোটা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হাব মহাসচিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এ বছরের হজের কোটা পূরণ হয়ে গেছে। এরপরও ২০ হাজারের বেশি হজে গমনেচ্ছু নিবন্ধনের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অনেকেই হজ পালনের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তিনি বলেন, কোনো কোনো পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও একই পরিবারের অন্য সদস্যরা কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিবন্ধিত হতে পারেননি। ফলে এসব হজযাত্রীর বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে অতিরিক্ত কোটা দেয়ার জন্য সৌদি সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো প্রয়োজন।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের জন্য মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। তবে বিগত কয়েক বছরে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২৭ সালের জন্য সৌদি সরকার বাংলাদেশের কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের নিবন্ধনের শেষ পর্যায়ে হজে গমনেচ্ছুদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার আগেই নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হয়ে যায়।

হাব মহাসচিব আরো বলেন, কোটা পূরণের পরও হজে গমনেচ্ছু অনেকে টাকা জমা দেন। তাদের টাকা গ্রহণের জন্য গত শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা হলেও নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাকা জমা দেয়ার পরও প্রায় ১৭ হাজার ব্যক্তি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি বলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল কোটা বিবেচনায় অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটা পাওয়ার যৌক্তিক দাবি রয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, গত হজে বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল। সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশী হজযাত্রীরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে হজ পালন করতে পেরেছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হবে।

এদিকে, অতিরিক্ত হজ কোটা বরাদ্দের ব্যবস্থা নিতে হাবের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কোটা বাড়ানোর প্রস্তাব সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র : বাসস