বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত

 

জনগণের শতভাগ আস্থা অর্জন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসি-কে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যাংকে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, শৃঙ্খলিত বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম প্রধান গুণ হলো নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। কমিউনিটি ব্যাংকের নন-পারফর্মিং অ্যাসেট বা খেলাপি ঋণের স্বল্প হারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত এবং এটি ব্যাংকের শৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসি-এর সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর পরিচালনা পর্ষদ কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না, যা সাধারণ ব্যাংকের চেয়ে এই ধরনের ব্যাংককে আলাদা মাত্রা দেয়।

জনগণের আস্থা ও আমানত বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুধু পুলিশ সদস্যদের ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ব্যাংকের সার্বিক ব্যবসা ও আমানত আশানুরূপ বৃদ্ধি পাবে না। সাধারণ আমানতকারী ও ব্যবসায়ীরা যেন নিশ্চিন্তে এবং আস্থা নিয়ে এখানে আমানত রাখতে পারেন—সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গ্রাহকদের লোন ডিলিং, জামানত প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং লোন ডিসবার্সমেন্টে অহেতুক শর্ত বা জটিলতা না রেখে বিশ্বস্ত গ্রাহকসেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। 

সাধারণ ব্যাংকিং খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মাল্টিন্যাশনাল বা করপোরেট ব্যাংকগুলোর একমাত্র লক্ষ্য থাকে বছরের শেষে কত কোটি টাকা মুনাফা হলো তা হিসাব করা। কিন্তু কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্দেশ্য কেবল মুনাফা অর্জন হওয়া উচিত নয়, তাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে-তারা কত বেশি সাধারণ মানুষকে মানসম্মত সেবা দিতে পারল।

কমিউনিটি ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড ব্যবহারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিএসআর ফান্ডের টাকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা অন্য কাউকে খুশি করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তোষামোদ না করে যেসব পুলিশ বা শৃঙ্খলিত বাহিনীর সদস্য দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন—তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই হলো সত্যিকারের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা। বাসস