গাজা, ইসরাইলি হামলা, শিশু, ফিলিস্তিনি, নিহত,যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন,
গাজায় গণ-কবর দেয়ার দৃশ্য। সংগৃহীত

 গাজা উপত্যকায় সোমবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও ইসরাইল-সমর্থিত বন্দুকধারীদের হামলায় সাত বছরের এক মেয়েশিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১৪ জন।

Advertisement

আল জাজিরা সোমবার (২৬ অক্টোবর) জানায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে বির ১৯ এলাকায় ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণে দুই তরুণ ও এক শিশু নিহত হন। নাসের হাসপাতালের এক চিকিৎসা সূত্র আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। এতে এক তরুণ নিহত ও চারজন আহত হন। পরে ইসরাইলি সামরিক যান থেকে তাঁবুগুলো লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আশপাশে গুলি চালায় ইসরাইল-সমর্থিত বন্দুকধারীরাও। এতে আরেক তরুণ ও সাত বছরের এক মেয়ে শিশু নিহত হয়। তাঁবুর ভেতরে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয় শিশুটি।

খান ইউনিসের পশ্চিমে আরেকটি ইসরাইলি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত ও চারজন আহত হন। আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। শহরটির পূর্বাঞ্চলে কামানের গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক গুলিবর্ষণের খবরও পাওয়া গেছে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বে ইসরাইলি গুলিতে এক নারী আহত হয়েছেন। উত্তর গাজায় গাজার পূর্বাঞ্চল, শুজাইয়া ও তুফাহ এলাকার দিকেও গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ইসরাইলি সেনারা যে সীমারেখা পর্যন্ত পিছু হটেছিল, সেটিই ‘হলুদ রেখা’ নামে পরিচিত। এই রেখা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অবস্থানের অনুমতিপ্রাপ্ত অঞ্চলকে আলাদা করেছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এসব হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।