
অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে সামরিক অভিযান দ্বিতীয় দিনে গড়ানোর সাথে সাথে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল করে ব্যারাক ও পর্যবেক্ষণ চৌকি বানিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। শনিবার বাসিন্দাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার পর এসব বাড়ি নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে তারা।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু রোববার (২৫ অক্টোবর) জানায়, ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওয়াফা জানিয়েছে, হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের খাল্লাত মান্না ও দাহিয়াত আল-জাইতুন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়ি দখল করে ব্যারাক বানিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। অন্য এলাকাতেও বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সেগুলো পর্যবেক্ষণ চৌকি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শুক্রবার থেকে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান, সড়ক বন্ধ এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শত শত পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে বাসিন্দাদের।
বেথলেহেমেও চলাচলে বাধা
বেথলেহেমের কাছে তুকু শহরে যাওয়ার মাটির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বিকল্প দুর্গম পথ দিয়ে যাতায়াতের সময় ফিলিস্তিনিদের গাড়ি লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও বিস্ফোরক শব্দসৃষ্টিকারী গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াফা।
সংস্থাটি বলেছে, বেথলেহেম এবং আশপাশের শহর ও গ্রামগুলোতে একের পর এক সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় ফিলিস্তিনিদের এখন এক সম্প্রদায় থেকে অন্য সম্প্রদায়ে যেতে কাঁচা রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
শুক্রবার দুই ফিলিস্তিনি ইসরাইলি একটি তল্লাশিচৌকিতে হামলা চালানোর পর হেবরন ও কাছের হালহুল শহর অবরুদ্ধ করে দেয় ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলি হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। পরে ইসরাইলি বাহিনী দুই হামলাকারীকেই হত্যা করে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানায়, কয়েক দিন ধরে এ অভিযান চলতে পারে। এতে বাড়িঘরে তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং অস্ত্র ও ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ খুঁজে বের করার কাজ চালানো হবে।
পশ্চিম তীরে বাড়ছে হামলা ও উচ্ছেদ
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ, ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে।
এসব হামলায় ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও আটক করা হচ্ছে। গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা। পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মসজিদ ও যানবাহন। বুলডোজার দিয়ে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে, কৃষকদের নিজেদের জমিতে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনপদগুলোকে এবং সম্প্রসারণ করা হচ্ছে অবৈধ ইসরাইলি বসতি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








