
ইসরাইলেরস আগামী ২৭ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটের আসন তিনটি কমে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ইহুদি বিরোধী দলগুলোর জোট পেতে পারে ৫৪টি আসন। তবে এই হিসাব অনুযায়ী, কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
মিডলইস্ট মনিটর জানায়, শুক্রবার প্রকাশিত জরিপটি করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাজার রিসার্চ ইনস্টিটিউট। ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভ নির্বাচনের চার দিন আগে জরিপের ফল প্রকাশ করে।
জরিপে বলা হয়েছে, এখন নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পাবে ১৯টি আসন। ইতামার বেন-গভিরের ইহুদি শক্তি পার্টি পেতে পারে সাতটি, কট্টরপন্থী অর্থোডক্স ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টি সাতটি, শাস পার্টি আটটি এবং বেজালেল স্মোত্রিচের ধর্মীয় জায়নবাদ পার্টি সাতটি আসন।
গত সপ্তাহের জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫১ বলে ধারণা করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা কমে ৪৮-এ নেমেছে।
ইহুদি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেটের টুগেদার পার্টি ১৫টি, ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি ১০টি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরাইল বেইতেনু পার্টি আটটি আসন পেতে পারে।
আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৪টি আসন পেতে পারে। এর মধ্যে ইউসুফ জাবারিনের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে নয়টি এবং মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড আরব লিস্ট পাঁচটি আসন। ইয়োয়াজ হেনডেলের নেতৃত্বাধীন রিজার্ভিস্টস পার্টি পেতে পারে চারটি আসন। তবে দলটি কোন জোটকে সমর্থন করবে, জরিপে তা উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরাইলের ১২০ সদস্যের সংসদ নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ইহুদি বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশ নেতা সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সাথে সহযোগিতা করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
মারিভের মতে, নেতানিয়াহুর জোটের আসন কমার অন্যতম কারণ ওফের উইন্টারের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়োর ইসরাইল’ পার্টির নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে না পারা। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দলটি চারটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। উইন্টার নির্বাচনে থাকলে ডানপন্থী ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে এবং এমন দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যাদের আসন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেতানিয়াহুর শিবির থেকে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পদে পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আইজেনকোট
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে চান, সেই প্রশ্নে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকোট। জরিপে তাঁর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ, নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪১ শতাংশ। বেনেটও নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে। তাঁর পক্ষে সমর্থন ৪৫ শতাংশ, আর নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৩ শতাংশ।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। নেসেটের অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবেন, এমন ব্যক্তিই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
আবারো নির্বাচন হতে পারে
বর্তমান অচলাবস্থা কাটানো না গেলে ইসরাইলে আবারো নির্বাচন হতে পারে। তবে বিকল্প হিসেবে জাতীয় ঐক্যের সরকার অথবা আরব আইনপ্রণেতাদের বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সীমিত ভিত্তির সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
মারিভের জরিপে দেখা গেছে, সংসদ নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ৬০ শতাংশ ইসরাইলি জাতীয় ঐক্যের সরকার চান। তাঁদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পরিবর্তনপন্থী জোটের কোনো নেতার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পক্ষে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে এমন সরকার চান ১৯ শতাংশ। বাকি ৮ শতাংশ এ বিষয়ে আগ্রহী নন।
ফল নির্ধারক না হলে আবারো নির্বাচন চান ২৩ শতাংশ ইসরাইলি। আগের জরিপে এ হার ছিল ২৭ শতাংশ। আর ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি।
লাজার রিসার্চ ইনস্টিটিউট দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫৮০ জন ইসরাইলির ওপর জরিপটি চালিয়েছে। এতে ভুলের সীমা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








