
তেহরানের সঙ্গে টানা উত্তেজনা ও সংঘাতের মুখে ইরান সরকারের সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিশেষ দূত টম বারাক এ কথা জানিয়েছেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অচলাবস্থা থাকলেও আমেরিকা আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী। কাতারের দোহায় আয়োজিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যর্থ ইতিহাস নিয়েও তিনি খোলামেলা প্রশ্ন তোলেন।
টম বারাক আক্ষেপের সুরেই স্বীকার করেন, এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস মোটেই সুখকর নয়। অতীতের ভুল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিবারই যখন আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ঢুকে কোনো শাসক বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি, তখনই সেটা এক বিরাট ভুল পদক্ষেপ বলে প্রমাণিত হয়েছে।’ ইরান ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এটি ভুল ছিল কি না তা স্পষ্ট না করলেও এর ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে রসদ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান টম বারাক। তবে হাউছিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন কোনো স্থল অভিযান চালানো একেবারেই ‘অর্থহীন’ বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য ওয়াশিংটনের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের মধ্যেই আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা আর হাউছিদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন সুর বদলের বার্তা এলো। ইয়েমেন পরিস্থিতি সামরিক শক্তির বদলে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের দিকেই এখন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








