জেরুজাল, হামাস, রাজধানী, সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র, সংগ্রাম ,
হামাসের লোগো। ইরনা

ফিলিস্তিনের আল-আকসা অভিযানের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে প্রতিরোধের বৈধ অধিকার এবং ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে হামাস। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরকে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গৌরবময় দিন হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, দখলদারিত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিনের ভূমি ও পবিত্র স্থানগুলো মুক্ত করার জন্য প্রতিরোধ একটি সম্পূর্ণ বৈধ অধিকার।

Advertisement

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ বুধবার (৭ অক্টোবর) জানায়, আল-আকসা অভিযানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস এই অবস্থান তুলে ধরে। এতে গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের সাহস, দৃঢ়তা ও জাতীয় সংহতির প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সংগ্রাম চলবে।

বিবৃতিতে হামাস উল্লেখ করে, ৭ অক্টোবরের অভিযান ছিল মূলত দীর্ঘদিনের আগ্রাসন, কঠোর অবরোধ, আল-আকসা মসজিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা ও বন্দিদের ওপর অন্যায় নিপীড়নের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ইসরাইল একে নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা হিসেবে দাবি করলেও, মূলত এটি ছিল তাদের দীর্ঘদিনের আগ্রাসনের জবাব।

সংগঠনটি আরও দাবি করে, গত তিন বছরে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষকে শহীদ এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করার মাধ্যমে দখলদার বাহিনী নিজেদের হিংস্র রূপ প্রকাশ করেছে। যুদ্ধবিরতির পরও হত্যা ও অবরোধের মাধ্যমে 'নীরব গণহত্যা' চালানো হচ্ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বজুড়ে—এমনকি তাদের মিত্র দেশগুলোতেও—ইসরাইলের বৈধতা নষ্ট হচ্ছে এবং তারা দিন দিন একা হয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিলিস্তিনের সব রাজনৈতিক ও বিপ্লবী আন্দোলনকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় কৌশল তৈরির জোর দাবি জানিয়েছে হামাস। একই সাথে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাইলকে বয়কট এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দায়ী নেতাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

হামাস জানায়, তাদের আন্দালন যুদ্ধবিরতি চুক্তি পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আগ্রাসন বন্ধ, ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গাজা পুনর্গঠন এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বিবৃতির শেষে ইসমাইল হানিয়া, সালেহ আল-আরুরি, ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও মুহাম্মদ দেইফসহ সকল ফিলিস্তিনি শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং বন্দিদের মুক্তির আশা প্রকাশ করে হামাস।