
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত বজায় থাকলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তায় ভয়াবহ ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতির উত্তরণে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সীমিত সার পরিবহনের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জানায়, বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও হরমুজ প্রণালী বিষয়ক জাতিসংঘের টাস্কফোর্সের প্রধান জর্জে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিষ্ক্রিয়তার পরিণতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক মহা দুঃখজনক পরিস্থিতি ডেকে আনবে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সারের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সুদান, সোমালিয়া, মোজাম্বিক ও তানজানিয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই দেশগুলোর সারের মোট চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
মোরেইরা দা সিলভা জানান, এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে সারের দাম মারাত্মকভাবে বেড়েছে এবং সারের ব্যবহার কমেছে। ফলে কৃষি উৎপাদন কমতে পারে এবং চরম খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে।
সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের বিষয়ে মূল আলোচনা চলাকালেই যেন অন্তত সারবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারে, সে লক্ষ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ ও পদ্ধতি তৈরি করেছে জাতিসংঘ। তবে এটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বা অবাধ নৌ চলাচলের বিকল্প নয়; বরং একটি মানবিক সংকট এড়ানোর সাময়িক ব্যবস্থা।
এই পদ্ধতির আওতায় শিপিং এজেন্টরা সার পরিবহনের আবেদন নথিভুক্ত করবে। অনুমোদন পাওয়ার পর জাতিসংঘ সংঘাতরত পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ রুট নিশ্চিত করবে। সার্বিক আলোচনা চলাকালে এই আত্মবিশ্বাস সৃষ্টিকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক সার চালান পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এ প্রস্তাবটি ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তবে সংঘাতরত দুই পক্ষের কাছ থেকে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়া যায়নি। একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে মোরেইরা দা সিলভা ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে প্রতি সপ্তাহে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, 'মাঠে পরিদর্শক নিয়োগ ও সার পরিবহন নিশ্চিত করতে আমাদের মাত্র সাত দিন সময় প্রয়োজন। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত, কিন্তু বিষয়টি এখন এর সাথে জড়িত পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।'
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








