দুদক, দুর্নীতি, কারাদণ্ড
সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাস। ইন্টারনেট

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো এক বছর কারাভোগ করতে হবে। 

Advertisement

এছাড়া রায়ে আসামির অবৈধভাবে উপার্জিত এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালাম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের ২৩ মে এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো: মাহবুব মোর্শেদ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শ্যামল কৃষ্ণ দাস এনবিআরের কর অঞ্চল ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকে নিজ নামে ও নির্ভরশীলদের নামে যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসসহ বিস্তারিত বিবরণী জমা দেন।

জমা দেয়া সম্পদ বিবরণীতে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন। এর সাথে ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকার পারিবারিক ব্যয় যোগ করে মোট তিন কোটি চার লাখ ৯৭ হাজার ১৭ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। যার মধ্যে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় এক কোটি ১৯ লাখ এক হাজার ২২৫ টাকা। 

বাকি এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার আয়ের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এ কারণে ওই সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে প্রতীয়মান করে দুদক।

মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ১৭ এপ্রিল শ্যামল কৃষ্ণকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালে চারজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।