ফ্রান্সে হাজারো বিক্ষোভকারী আটক, ৫ নভেম্বর ফের ধর্মঘটের ডাক
প্যারিসে ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ের দৃশ্য। নয়া দিগন্ত

সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সরকারি নীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতায় বিভিন্ন শহরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত দুজন গুরুতর আহত এবং প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় আগামী ৫ নভেম্বর নতুন করে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দেশটির প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো।

Advertisement

শনিবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির সময় হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ করে সরকারি দমনপীড়নে আন্দোলন থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজিটি। শ্রমিকদের দাবি পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটি আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) নতুন করে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এদিনের বিক্ষোভে সারা দেশে প্রায় চার লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে প্রধান শ্রমিক সংগঠন কনফেডারেশন জেনারেল দু ত্রাভাই (সিজিটি)-এর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দেশজুড়ে মোট ২৮৯টি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ
দিনের প্রথমার্ধে অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে প্যারিস, গ্রেনোবল, মার্সেই, স্ট্রাসবুর্গ, রেন, নঁতে ও লিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। কয়েকটি স্থানে দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটপাটের চেষ্টা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্যারিসে পুলিশ প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক লাখ ১০ হাজার এবং সিজিটির হিসাবে দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। মিছিলের শেষ পর্যায়ে পোর্ত দ্য ভিনসেন এলাকায় পাঁচ শতাধিক ভাঙচুরকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে সাধারণ অনেক বিক্ষোভকারী আটকা পড়েন।

আটক ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিক্ষোভের ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আগের সপ্তাহে (১৭ অক্টোবর) একই সময় পর্যন্ত ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তার দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় সরকারি স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা বা ব্যাপক লুটপাট এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে আঞ্চলিক শহরগুলোতে সহিংসতার মাত্রা ছিল তীব্র। গ্রেনোবলে প্রায় ৪০০ জন ব্ল্যাক ব্লকের সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে প্রশাসন জানায়। সেখানে একটি পিৎজা হাট ও সুপারমার্কেটে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। তুলুজে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ২০ বছর বয়সি এক তরুণের ডান হাত ও একাধিক আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুয়াতিয়েতে ১৯ বছর বয়সি আরেক বিক্ষোভকারী চোখে আঘাত পান। এছাড়া খবর সংগ্রহের সময় প্যারিস ও ত্রাপ শহরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভি।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও পরবর্তী কর্মসূচি
পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ দাবি করেছেন, কিছু উগ্রপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষে উসকানি দিয়েছে।