
যুক্তরাজ্যের অন্তত ১০০ জন গবেষকের কাজকে ব্যবহার করে গোয়েন্দা নজরদারির ক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন। এ উদ্দেশ্যে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অর্থ জোগাচ্ছে বেইজিং। যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ এমন অভিযোগ তুলে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চীনা ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে সব ধরনের সহযোগিতা পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জানায়, চায়না জেনারেল টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিজিটিআরআই-এর সাথে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এমএসএস-এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি জারি করা একটি প্রকাশ্য সতর্কবার্তায় ব্রিটিশ গোয়েন্দারা এ কথা জানান। প্রতিষ্ঠানটিকে মাঝেমধ্যে চায়না একাডেমি অফ জেনারেল টেকনোলজি নামেও ডাকা হয়।
এমআইফাইভ নিশ্চিত করেছে, সিজিটিআরআই-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমএসএস-এর প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা ক্ষমতা বাড়ানো। সেই লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক গবেষণায় অর্থায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্টেনোগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করানো হচ্ছে। স্টেনোগ্রাফি হলো এমন এক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে অন্য কোনো উপাদানের ভেতরে লুকিয়ে তথ্য পাঠানো যায়।
সংস্থাটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড চীনা গোয়েন্দাদের সহায়তা করছে এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাটি এটাও স্বীকার করেছে, যেসব গবেষক এসব প্রকল্পে অবদান রেখেছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো জানতেন না যে এর পেছনে চীনা গোয়েন্দা সংস্থার অর্থ জড়িত রয়েছে। গোপনীয়তার কারণে অনেকেই সরল বিশ্বাসে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছেন।
এমআইফাইভ যুক্তরাজ্যের সব শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সিজিটিআরআই-এর সাথে চলতি বা প্রস্তাবিত সব যৌথ কাজ অবিলম্বে পর্যালোচনা করতে বলেছে। একই সাথে যেসব গবেষক চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছেন, তাঁদের তহবিলের মূল উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর আওতায় আইনি পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করা বা তাঁদের কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেয়ার বিষয়গুলো এতে জোর দেয়া হয়েছে। এমআইফাইভ পরামর্শ দিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত সিজিটিআরআই-এর অর্থায়নে চলা গবেষণা অব্যাহত রাখতে চান, তাঁদের দ্রুত স্বাধীন আইনি পরামর্শ দেয়া উচিত।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








