
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সীমান্তে পার্বত্য উপত্যকা সাজেক। সাগরের পিঠ থেকে প্রায় এক হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে হওয়ায় একে বলা হয় মেঘের উপত্যকা। প্রকৃতি, পাহাড় মিলে অনন্য সুন্দর এই পর্যটন এলাকার কৌশলগত গুরুত্বও অনেক। সাজেকে পর্যটক যান। তাদের এ যাওয়ার ওপর নির্ভর করে স্থানীয় অনেকের রুটি-রুজি। এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় ঘটে গেছে উদ্বেগজনক ঘটনা।
সাজেক উপত্যকায় সড়ক অবরোধ কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তবে স্বস্তির বিষয় হলো— সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ পদক্ষেপে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি বা মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও করেছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানের কারণে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে গোলাগুলির খবর অস্বীকার করা হয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো— পাহাড়ের উগ্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে। তাদের আবেগকে পুঁজি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করে।
সাজেক অবরোধ এবং গোলাগুলির কারণে এক দিকে হুমকিতে পড়েছে পর্যটন, অন্য দিকে পেটে টান পড়ছে স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর। পরিবহনের অভাবে জুমের ফসল বাজারে নিতে পারছেন না তারা। তা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি।
এই সঙ্কট নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়াই যথেষ্ট নয়, সমস্যাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যাতে সাধারণ মানুষের আড়ালে লুকিয়ে নাশকতা চালাতে না পারে, এর জন্য নিরাপত্তাবাহিনীর গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী ও নিখুঁত করতে হবে। সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে, গণহারে তল্লাশি ও অভিযানে নির্দোষ ও সাধারণরা যেন ভোগান্তির শিকার না হন। গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি থাকলে অনেকসময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আমরা আশা করি, সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। এতে এক দিকে অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী চক্রকে নির্মূল করা সম্ভব হবে, অন্য দিকে পাহাড়ে অবস্থানরত সাধারণের আস্থা ও নিরাপত্তা ঠিক থাকবে।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভূকৌশলগত কারণে পার্বত্য এলাকায় স্থিতিশীলতা জরুরি। সেই সাথে পর্যটনের গুরুত্ব তো আছেই। স্থিতিশীলতার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
পাহাড়কে স্থায়ীভাবে নিরাপদ করা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








