
রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ হাউজিং এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৮৫ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে গভীর রাতে অসামাজিক কাজকর্ম হতো। বাড়ির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত জিআইজি। বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেয়া হতো।
এয়ারবিএনবি হলো এয়ারবেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের জনপ্রিয় মাধ্যম। ২০০৮ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে একটি ডিজাইন কনফারেন্স হয়। এতে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে শহরের সব হোটেল বুকড হয়ে যায়। তখন ব্রায়ান ও জো নামের দুই তরুণ তাদের ফ্ল্যাটের লিভিংরুমে এয়ার ম্যাট্রেস পেতে দেন অতিথিদের জন্য। সকালের নাশতার ব্যবস্থাও করেন। বাতাস ভরা এয়ার ম্যাট্রেস এবং সকালের নাশতার এই ধারণা থেকেই এয়ারবিএনবির জন্ম।
এয়ারবিএনবির পাশাপাশি কাউচসার্ফিংও পর্যটকদের পছন্দ। মূলত এই দু’টি প্ল্যাটফর্ম ঐতিহ্যবাহী হোমস্টে ধারণার আধুনিক রূপ। অর্থাৎ হোটেল বা বাণিজ্যিক রিসোর্টে না থেকে কারো বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করা। কাউচসার্ফিংয়ের আতিথেয়তা হয় বিনামূল্যে অথবা উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে। আর এয়ারবিএনবিতে কম খরচে থাকার ব্যবস্থা হয়। এতে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা কোনো দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সরাসরি পরিচিত হতে পারেন।
বাংলাদেশে হোমস্টে ব্যবস্থা পরিচালনার নীতি বা আইনি রূপরেখা নেই। তবে এখানে হোমস্টে আছে। ওই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে অনেকেই বিদেশীদের আতিথেয়তা দিচ্ছেন। এই সুবিধার অপব্যবহারও হচ্ছে, যেমন ভাটারার ঘটনা। আইনি রূপরেখা না থাকায় অসাধু লোকেরা হোমস্টে বা এয়ারবিএনবির আড়ালে অনৈতিক কাজ ও মাদকের আসর বসানোর সুযোগ পাচ্ছে। এতে যারা সত্যিকার অর্থে আতিথেয়তা করতে চান তারা সমস্যায় পড়েন।
একজন নাগরিক তার বাড়ির খালি রুম পর্যটকদের ভাড়া দেবেন, এটি এয়ারবিএনবি অথবা হোমস্টের মূল ধারণা। একে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক হোটেলের মতো জটিল লাইসেন্স কিংবা জটিল ছাড়পত্রের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ধারণার মূল উদ্দেশ্যই থাকে না। অনেক দেশে এর জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা আছে। প্যারিসে আবাসিক এলাকায় হোমস্টের জন্য ট্রেড লাইসেন্স বা হোটেল ব্যবসার অনুমোদন নিতে হয় না। সিটির ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে এয়ারবিএনবি চালানো যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিদ্যমান সিআইএমএস অ্যাপ বা এমন কোনো পোর্টালে অতিথির পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোডের নিয়ম রেখে নিবন্ধন চালু করা সম্ভব। অতিথি আসামাত্র পোর্টালে অতিথির পাসপোর্ট বা এনআইডি আপলোড করা হলে থানা থেকেই তা মনিটর করা সম্ভব।
এই সহজ ব্যবস্থার অভাবে বাংলাদেশে ইনবাউন্ড ট্যুরিজমের প্রসার হচ্ছে না। অন্যদিকে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বেআইনি কাজে ব্যবহার করছে একশ্রেণীর লোক। ফলে যারা আন্তরিকভাবেই আন্তর্জাতিক অতিথিদের আশ্রয় দিচ্ছেন, বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, নিজেদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা তুলে ধরছেন, তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখার অবকাশ তৈরি হচ্ছে। অযাচিত হয়রানির ভয়ে তারা বিদেশী অতিথিদের বাড়িতে রাখতে ভয় পাচ্ছেন।
এয়ারবিএনবি বা কাউচসার্ফিংয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে সহজ ও নিরাপদ করার সময় এখন। দরকার পর্যটন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








