সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশ উদ্বেগজনক। এমন এক সময় এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটছে, যখন দেশের অর্থনীতি বেশ নাজুক। গত বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীতে বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় আগুন লাগে। এতে কারখানাটির ওষুধ, উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর ওষুধ কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর দু’দিন পর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে দ্য ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র লক্ষ করা গেছে। তখন শিল্পকারখানা ধ্বংস করে দেশকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টাও দেখা গেছে। এমতাবস্থায় এখন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ও ইবনে সিনার ওষুধ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাভাবিকভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। এই দুই অগ্নিকাণ্ড কোনো ধরনের অন্তর্ঘাত কি-না তা খতিয়ে দেখতে হবে। 
গত শনিবার কক্সবাজরের উখিয়ায় ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ড আরো বেশি উদ্বেগজনক। এতে ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 
নয়া দিগন্তের খবরে বলা হয়েছে, রিসোর্টের রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় চায়ের পানি বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিরাপত্তাকর্মী তোফাইল। একপর্যায়ে কেটলির পানি শুকিয়ে আগুন ধরে যায় রান্নাঘরে। দখিনা বাতাসে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টের বিভিন্ন অংশে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আগুনে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে প্রাণ হারান ১০ পর্যটক। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারেরই ছয়জন রয়েছেন। এ সময় রান্নার জন্য থাকা সিলিন্ডার  বিস্ফোরণ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তোলে। 
সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেছেন, রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। গত জুনেই পরিদর্শনের পর রিসোর্টটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করে নোটিশও দেয়া হয়েছিল। এর পরও রিসোর্টটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়েছে। 
অবৈধভাবে চলা একটি রিসোর্টকে শুধু সতর্ক করেই কি সরকার তার দায়িত্ব শেষ করতে পারে?  জুনে রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর কেন এত সময় পরও আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না?  অগ্নিকাণ্ডে এসব মৃত্যুর দায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়াও সরকারের ওপরও কি বর্তায় না?
কক্সবাজার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ঘটনা বরং কক্সবাজারকেন্দ্রিক পর্যটকদের নানাবিধ নিরাপত্তা সঙ্কটের অংশ। 
কক্সবাজারে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেনসার্ভিস চালু হওয়ার পর পর্যটক সংখ্যা আরো বাড়ছে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেনি। 
উখিয়ার এই অগ্নিকাণ্ড দেশের পর্যটন সম্পর্কে দেশে-বিদেশে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনীতিও ধাক্কা খাবে।  
সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো যথাযথ তদন্ত করতে হবে। এসব ঘটনায় কোনো ধরনের অন্তর্ঘাত রয়েছে কি না তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঘাটতিগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হতে পারি আমরা। 

Advertisement