
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি সংসদ সদস্যদের আসনগুলোতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা ধসে পড়ার কারণে দেশ দীর্ঘ এক ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছিল। ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার করে স্থানীয় সরকারে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার এতটাই নির্লজ্জ অবস্থান নিয়েছিল, ভোটের কোনো পরোয়া তারা করত না। যাকে পছন্দ করত ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা উপজেলায় তাকে বিজয়ী প্রার্থী ঘোষণা করত। এ যাত্রায় নির্বাচন কমিশন রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ভূমিকা রাখত। বিজয়ী প্রার্থীদের এলাকায় নির্বাচনের মৌসুমে বরাদ্দ দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পথই অনুসরণ করতে যাচ্ছে নতুন সরকার।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সরকারি দলের এমপিদের এমন সময়ে বরাদ্দ দিয়েছে যা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বরাদ্দের জন্য বাছাই করা এলাকা সুপরিকল্পিত। ঠিক যেসব এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং সরকারি দলের এমপি রয়েছে সেখানেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ কারণে যেসব এলাকায় সরকারি দলের এমপি রয়েছে; কিন্তু সেসব এলাকা সিটি করপোরেশন আওতায়, সেখানে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এমন আসন রয়েছে ১২টি। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একটি এলাকাও এই বরাদ্দের আওতায় আসেনি। উত্তরবঙ্গের রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের ১৯ আসনের একটি ছাড়া সব ক’টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত-এনসিপি, দেখা গেল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সরকারি দলের ওই একটি আসনে। বিরোধী জোট ছেড়ে যাওয়ায় খেলাফতের জেতা আসন সিলেট-৫-এও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিরোধীদের প্রতি স্পষ্ট বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। সরকারের সাহায্য দলমত বিবেচনায় হতে পারে না। কেবল বিরোধী দলের সদস্যদের নির্বাচিত করায় তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হলো না। এমন মানসিকতা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে একেবারে অনাকাক্সিক্ষত।
সরকারি সংসদ সদস্যদের এলাকাগুলোর জন্য মোট ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর মঞ্জুর করা বরাদ্দের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যয় করতে হবে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। এ দিকে ১২ অক্টোবর পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে তা শেষ হবে ২৭ মে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এটি যে প্রভাব ফেলবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। দেশের গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে বিকাশের পথে হাঁটছে কি না এর মাধ্যমে প্রমাণ হবে। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার বিষয়টি যাচাই হবে। শুরুতে সরকার এমন কাজ করল যা বিতর্ক তৈরি করবে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন বিধি অনুযায়ী উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া না গেলেও সেই কাজটা সরকার করল।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার নিরপেক্ষতা দেখাতে পারছে না। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন এবং পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে কী অবস্থা হবে। এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে সরকার ঢালাওভাবে প্রশাসক নিয়োগ করে সমালোচিত হয়েছে। সরকারের উচিত বরাদ্দের বিষয়টি দ্রুততার সাথে পুনর্বিবেচনা করা। একই সাথে নির্বাচন কমিশনেরও এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করা দরকার।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








