
বাংলাদেশে প্লাস্টিক বর্জ্য দীর্ঘদিন থেকে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পরিবেশবাদী এনজিও ও গণমাধ্যমসহ সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশে প্রতিদিন শুধু শহরাঞ্চলেই আনুমানিক ৩৮ হাজার টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়, যা ২০৪০ সালের মধ্যে এক লাখ ১৮ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। এই বর্জ্যরে প্রায় ১০ শতাংশ প্লাস্টিক।
অন্যদিকে গত বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৮ বছরে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে ৮০ গুণ। এ সময়ে এটি ১৫ হাজার টন থেকে ১৮ লাখ টনে পৌঁছেছে।
প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগের আসল কারণ হলো এসব বর্জ্য অপচনশীল। এগুলো ড্রেন, খাল ও নালায় আটকে থাকে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। একই সাথে এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। শুধু তাই নয়, প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরের জীববৈচিত্র্য কঠিন করে তুলছে। আমরা শিশুদের হাতে এমন কিছু প্লাস্টিকের খেলনা তুলে দিচ্ছি যেগুলো দিয়ে খেলার কারণে তারা নানাধরনের শারীরিক সমস্যায় ভোগছে। বিষয়টি সচেতন অভিভাবকদের বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলছে।
প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলো অনেক আগেই বেশ শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। এ ছাড়াও প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারে নানা ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার অন্যতম উদ্দেশ্য জনগণকে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে রক্ষা করা।
বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সে ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা বেশ দুঃসাধ্য। তাই বলে জাতিকে পুরোপুরি প্লাস্টিক দূষণের কবলে ছেড়ে দেয়া যায় না। কিভাবে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন কমানো যায়, সেদিকে আমাদের বেশি নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশে এখন ব্যাপক হারে নগরায়ন হচ্ছে। মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ছে এবং শহরমুখীও হচ্ছে। সেই সাথে অনেক গ্রামাঞ্চলও এখন শহরের রূপ ধারণ করছে। এমতাবস্থায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন শুধু রাজধানী ঢাকার কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোর জন্যই যথেষ্ট নয়; জেলা ও থানা শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভাবতে হবে।
বর্তমানে শহরগুলোতে যেভাবে গণহারে সব বর্জ্য একত্রিত করে বর্জ্য সংগ্রহ কর্মীরা নিয়ে যান, তাতে প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদা করার সুযোগ থাকে না। এখানে নগর কর্তৃপক্ষের ওপর দায় আছে। প্রতিটি নগরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করতে হবে। এ ছাড়াও নগরের প্লাস্টিক ব্যবহারকারী দোকান কিংবা বাড়িওয়ালা যদি ব্যবহার করা প্লাস্টিকগুলো শুরুতেই পৃথক করে সেক্ষেত্রে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের জন্য আরো সুবিধা হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যেমন সরকারের সুন্দর পরিকল্পনা দরকার তেমনি প্লাস্টিক উৎপাদনকারীদেরও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই সাথে জনগণের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর দিক থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা আমরা করতে পারি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








