মতামত
মতামত। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী শক্তি আওয়ামী লীগের হেনস্তা করার ঘটনাটি শুধু নিন্দনীয়ই নয়, উদ্বেগেরও বটে। এ ঘটনায় আবারো প্রমাণ হলো— চব্বিশের গণহত্যাকারীদের এখনো কোনো অনুশোচনা নেই। তার বদলে দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রকাশ ঘটাচ্ছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে গত সোমবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনাটি এবারই প্রথম নয়। এর আগে তিনি প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন এই বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তার সফরসঙ্গীদের ওপর আওয়ামী লীগ হামলা করেছিল। ওই সময় সুইজারল্যান্ডে ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তা করেছে তারা। কয়েক মাস আগে জুলাইযোদ্ধা শিল্পী আজমেরী হক বাঁধনকেও ইতালিতে হামলা করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। 
জন এফ কেনেডিতে ড. ইউনূসকে হেনস্তাকারী নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহরাজ ফাহমি। 
অতীতের মতো এখনো তারা ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এখন তারা নিশানা করেছে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোকে। একটি কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। 
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূস ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন। ছাত্র-জনতা তাকে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার চেয়ারে বসিয়েছিলেন। মানুষের প্রত্যাশা তিনি সাধ্যানুসারে পূরণের চেষ্টা করেছেন। ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যাকারী শক্তি আওয়ামী লীগের গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। সবচেয়ে বড় কাজটি ছিল একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। 
আওয়ামী লীগ যেখানে গণতন্ত্র হত্যা করে শাসন ক্ষমতায় জোরপূর্বক টিকে ছিল,  সেখানে ড. ইউনূস দেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। এমন একজন দেশপ্রেমিক মানুষকে হেনস্তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মূলত তাদের পুরনো দেশবিরোধী অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। 
দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগের এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে। ড. ইউনূস কিংবা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিকভাবে জোর তৎপরতা চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবে না। 
আমরা খুব বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করছি, কিছু মানুষ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আবারো বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগদানের লক্ষ্যে কথিত রিকনসিলিয়েশনের কথা বলছেন। কিন্তু তারা গণহত্যাকারী এই  ফ্যাসিবাদী শক্তির গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে খুব একটা উদ্যোগী হচ্ছেন না।
চব্বিশের গণহত্যার বিচার আগে সম্পন্ন করতে হবে। ক্ষমতার সাড়ে ১৫ বছরে যত অপরাধ তারা করেছে সব বিচার শেষ করতে হবে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে— বিচারে যথেষ্ট গতি নেই। অপরাধীদের বেশির ভাগ রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর মধ্যে রিকনসিলিয়েশনের কথা তোলা হয়েছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। জুলাইযোদ্ধাদের ওপর এ পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে সবগুলোর বিচার হতে হবে। অন্যথায় বিদেশের মাটিতে তাদের সন্ত্রাস ঠেকানো যাবে না। যে কেউ তাদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। 

Advertisement