
দেশের তৈরী পোশাক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটে বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের দামে ছাড় চাচ্ছে। কারণ আমাদের তৈরী পোশাকের প্রধান রফতানি বাজার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরী পোশাকের চাহিদা সম্প্রতি কমেছে। এর ফলে ক্রয়াদেশ কমে যাচ্ছে, পণ্যের দামও কমেছে। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আমাদের বাজার দখল করে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক’দিন আগেও বাংলাদেশ ছিল তৈরী পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক। সেই অবস্থান সম্প্রতি দখলে নিয়েছে চীন। তিন নম্বরে নেমে এসেছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তিনটি। প্রথমত ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, দ্বিতীয়ত উৎপাদন ব্যয়ে বাড়তি চাপ এবং তৃতীয়ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাম্প্রতিক জরিপে ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানা জানিয়েছে, বিদেশী ক্রেতারা তাদের অর্ডার কমিয়েছেন বা বাতিল করেছেন। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ৮৭ শতাংশ কারখানাই নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর ফলে ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি আয় কমেছে, ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারেও রফতানি প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। এ অবস্থায় ক্রয়াদেশ ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চ্যালেঞ্জের সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা। গ্যাসের সঙ্কট ও নিম্নচাপ, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, বিকল্প জ্বালানিতে বাড়তি ব্যয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে উৎপাদন হয়ে উঠছে ব্যয়বহুল। স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিংসহ জ্বালানিনির্ভর উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় এসব সমস্যার প্রভাব আরো বেশি হতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাড়তি দাম দেন না; বরং চাহিদা কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে কম দামে পণ্য চান। স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদকরা আগের কম দরেই অর্ডার নিতে বাধ্য হন। এতে রফতানি আয় বাড়লেও প্রকৃত মুনাফা সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে সবটাই এখনো নেতিবাচক নয়। কিছুটা আশাবাদের জায়গাও আছে। যেমন— ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমলেও স্পেন, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি অপ্রচলিত বাজারে তৈরী পোশাক রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে পোশাক খাতে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তির অবকাশ সৃষ্টি হচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখনো কম দামি সাধারণ পোশাক তৈরি ও রফতানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বেশি মূল্য সংযোজন হয় এমন পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। চীন, ভিয়েতনাম সেই পথেই এগিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ এটিই। সাধারণ পোশাক তৈরি থেকে বেরিয়ে এসে কারিগরি পোশাক, বিশেষায়িত নিট পণ্য, উন্নত মানের ডেনিম ও পরিবেশবান্ধব উপকরণনির্ভর পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তবে এ জন্য শুধু উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি এবং কার্যকর লজিস্টিকস ব্যবস্থাও থাকতে হবে। সেটি সরকারের বিশেষ মনোযোগ দাবি করে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








