
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নতুন নয়। এ নিয়ে প্রবাসীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। বিদেশ থেকে বিমানযাত্রার পর দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয় ইমিগ্রেশনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেলেও লাগেজ পাওয়া যায় না। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিত্যদিনের চিত্র। যেমন— দিন কয়েক আগে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ওই ফ্লাইটে ফেরা ৩৪ সংসদ সদস্য ঢাকায় অবতরণের পর হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হন। এ ঘটনা ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসন যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা মূল সমস্যা সমাধানের বদলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে হট্টগোল ও সীমানালঙ্ঘনকারী আচরণের অভিযোগে সাবেক সংসদ-সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি বন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করেছিলেন। প্রতিবাদের ভাষা হয়তো সংযত ছিল না। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে এমন আচরণ, তা-ও বিবেচনার বিষয়। বিমানযাত্রা করে দেশের মাটিতে পৌঁছার পর সেখানে যদি অব্যবস্থাপনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়, তখন মেজাজ সংযত রাখা কঠিন বৈকি। লাগেজ অথবা সাথে নিয়ে আসা কোনো মালামাল পাওয়া না গেলে একজন যাত্রীর মনের অবস্থা কী হয়, তা-ও বিবেচনায় রাখা উচিত। প্রবাসীরা স্বদেশে ফেরার সময় মূল্যবান অনেক কিছু নিয়ে আসেন। কিন্তু দেশের মাটিতে নামার পর লাগেজ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। এই হয়রানির কি কোনো সুরাহা হয়েছে?
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেখানে একটি বিমানবন্দরে আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় দ্রুততার সাথে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও লাগেজ হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়, সেখানে আমাদের প্রধান বিমানবন্দরে অ্যানালগ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। তা ছাড়া সমন্বয়হীনতা যাত্রীদের সময় ও ধৈর্য— দুটো নিঃশেষ করে ফেলে। বিশেষ করে যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, দেশের মাটিতে পা দিয়ে তাদের কাস্টমস হয়রানি, ট্রলি সঙ্কট এবং লাগেজের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। নাগরিকরা যখন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চরম ব্যর্থতার মুখোমুখি হন, তখন কর্তৃপক্ষের উচিত দায়ীদের শনাক্ত করে সেবার মান বাড়ানো। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে— অব্যবস্থাপনা ঢাকা দিতে নাগরিকের প্রতিক্রিয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে। এ প্রবণতা উৎকটভাবে সুশাসনের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভুক্তভোগীর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সাময়িকভাবে চেপে রাখা যায়। তাতে সমস্যা আরো ঘণীভূত হয়।
বিমানবন্দরের সীমাহীন অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এর প্রতিবাদ করেছেন মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান। তার প্রতিবাদের ভাষা অগ্রহণযোগ্য স্বীকার করেও একথা বলা যায়, একজন ভুক্তভোগী অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তা অপরাধ হিসেবে আমলে নিতে হবে? এটি করে সরকার কী বার্তা দিতে চায়? সরকার কি ভেবে নিয়েছে, এতে তাদের ভাবমর্যদা বাড়বে?
অথচ সরকারের উচিত ছিল, এমন ঘটনা কেন জন্ম নেয়, তার কার্যকারণ বিবেচনায় নেয়া। তা না নিয়ে শুধু প্রতিক্রিয়ার জেরে মামলা দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করা বিবেচনাপ্রসূত হয়েছে, মনে করার কোনো কারণ নেই। আমাদের বিবেচনায় সরকারের উচিত ছিল মূল সমস্যার শিকড় উপড়ে ফেলতে বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন চলে আসা দুষ্টুচক্র ভাঙা। নিত্যদিন অনিয়ম- অপকর্মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। যেন দেশের মাটিতে বিমানযাত্রীরা হয়রানির শিকার না হন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








