
শেখ হাসিনার শাসনে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ড. ইউনূসের সময় গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি প্রায় দুই বছর আগে এই প্রতিবেদন দিয়েছে। এখনো পাচার হওয়া অর্থের কোনো অংশ দেশে ফিরিয়ে আনার নজির নেই। এ ব্যাপারে সরকারের অনুসন্ধান অনেকটা ঝিমিয়ে আছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ বিপুল মুদ্রাপাচার। রাজনৈতিক সরকারের আমলে পাচার অর্থ ফিরিয়ে আনা, বিদেশে তা জব্দ করা এবং শনাক্তের কাজ বেগবান হওয়ার আশা করা হচ্ছিল। এ নিয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটির অলোচনায় সামান্য কিছু অগ্রগতির খবর জানা গেলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়।
পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে কার্যকর প্রচেষ্টা চালাতে অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স (এআরটিএফ) গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে এ কমিটির সহায়তায় আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, দুদক, রাজস্ব বোর্ড, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্সিকে সহায়তায় যুক্ত করা হয়েছে। এটি চলমান দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ মোকাবেলা করতেও কাজ করবে। চব্বিশের পটপরিবর্তনে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হওয়ায় অর্থপাচার এমনকি আর্থিক দুর্নীতি হ্রাস পাওয়ার কথা। বড় বিষয়— পাচার হওয়া বিপুল সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা। টাস্কফোর্সের এই বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেয়ার কথা থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ডে এর প্রতিফলন নেই।
গত বৃহস্পতিবার অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি বিদেশে পাচার হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে সংসদ ভবনে আলোচনা করে। তাতে বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে সুনির্দিষ্ট কী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, চলমান তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। বৈঠকে এ সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিজে উপস্থিত ছিলেন না। এখন পর্যন্ত খবর হচ্ছে, আদালতের জব্দ করা দেশী-বিদেশী ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এই মূল্যমানের সম্পদ আদালত চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সংযুক্ত, জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, ১৫৮ জনের বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ক’জন পলাতক তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজদের আটক করতে গাফিলতি দেখা গেছে। সরকারের সমন্বয়হীনতা ও আদেশ কার্যকরে শিথিলতা অপরাধীদের দেশ থেকে পালাতে এবং অবৈধ সম্পদ সরিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। শেখ হাসিনার পালানোর দুই বছর হয়ে গেলেও দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা ধীরগতি, এটি স্পষ্ট।
বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধীদের শাস্তি দেয়া শুধু অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়; এতে নিহিত আছে আমাদের অর্থনীতি ভবিষ্যতে কতটা সুস্থ ধারায় ফিরবে তার বার্তা। এ কাজে ব্যর্থ হলে সরকার উন্নত নৈতিক ভিত্তি পাবে না। মুদ্রা পাচারকারীরা আখেরে মাফ পেয়ে যায়— এমন ধারণা থেকে যাবে। সে কারণে শুধু পুরনো নয়, নতুন চোররাও উৎসাহী হবে। সুতরাং এআরটিএফকে করিৎকর্মা হতে হবে। প্রয়োজনে কারো সহযোগিতার দরকার হলে তাদেরও কাজে লাগাতে হবে। যে করেই হোক, যারা দেশকে দেউলিয়া করেছে; তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








