
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অগ্রসরমান দেশগুলো শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে গড়ে তুলেছে টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা। তারা শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন করে থাকে। দুর্ভাগ্য হলো— স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা তা করতে পারিনি। ফলে এখনো আমরা দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করতে পারিনি। আরো হতাশার বিষয় হলো— দেশে যে শিক্ষাব্যবস্থা বলবৎ আছে, তারও সদ্ব্যবহার করতে পারছি না। এর সর্বশেষ নজির শিক্ষাবর্ষের শুরুতে একাদশের পাঠদানে ব্যাঘাতের ঘটনা।
সারা দেশে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একযোগে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে এনসিটিবির অব্যবস্থাপনা আর সিদ্ধান্তহীনতায় বাংলা ও ইংরেজির মতো বাধ্যতামূলক দুই বিষয়ের মূল পড়া শুরু হয়নি। সিলেবাস ও নম্বর বণ্টন না পেয়ে কী পড়াবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না শিক্ষকরা। সঠিক নির্দেশনার অভাবে যখন পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়, তখন তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট করে তোলে।
নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন বলছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই শিক্ষার্থীদের কাছে আগেই পৌঁছেছে। কিন্তু সিলেবাস চূড়ান্ত না হওয়ায় আপাতত বাংলা বিষয়ের পাঠদান স্থগিত রেখেছেন শিক্ষকরা। অন্য দিকে ইংরেজি বিষয়ে পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় বা পড়ানো শুরু হলেও এর প্রশ্নকাঠামো ও নম্বর বণ্টন বদলে যাবে কি না— তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এমনিতে প্রতি বছর ইংরেজি বিষয়ে হুটহাট নম্বর বণ্টন ও প্রশ্নকাঠামো পরিবর্তনে শিক্ষার্থীরা অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় পান না। গত বছরও ক্লাস শুরুর ছয় মাস পর বাংলার সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছিল। ফলে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলায় ফল বিপর্যয়ের শঙ্কা আছে।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে এমনিতে পাঠদানে নির্ধারিত সময় অনেক কম। তার ওপর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সিলেবাস না পেলে সমাপ্ত করতে শেষ সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেকায়দায় পড়তে হয়। সময়মতো সিলেবাস সমাপ্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শেষ মুহূর্তে কোচিং-নির্ভর হয়ে পড়েন।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় আজ লাখো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের এই অনিশ্চয়তা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নজরদারি এবং এনসিটিবি কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে ক্লাস শুরুর আগেই সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশিত হতে পারত। এই বিভ্রম নিয়ে এনসিটিবির সদস্যের দাবি, আগের সিলেবাসের আলোকে ক্লাস চালানো সম্ভব। তার এমন দাবি বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ প্রশ্নকাঠামো ও নম্বর বণ্টন সুনির্দিষ্ট না থাকলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কে অন্ধকারে থেকে এগোতে হয়, যা মানসম্মত পাঠদানের পদ্ধতি হতে পারে না। বিগত বছরগুলোতেও ক্লাস শুরুর দীর্ঘ সময় পর সিলেবাস প্রকাশ বা হুটহাট নম্বর বণ্টন পরিবর্তনের নজির আছে। ধারাবাহিকভাবে এমন চলে আসা প্রশাসনিক ঢিলেমি ও স্বেচ্ছাচারিতা শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে পরীক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তায় পড়তে। শেষ মুহূর্তে কোচিং-নির্ভর হয়ে পড়তে।
এনসিটিবির মতো দায়িত্বশীল একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা বছরের সূচনালগ্নে এমন গাফিলতি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশ্ন হলো— কর্মকর্তাদের অবহেলা ও নজরদারির অভাবে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্টের দায় কে নেবে? সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত অনতিবিলম্বে এনসিটিবির কার্যক্রমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা; কয়েক দিনের মধ্যে সিলেবাস ও নম্বর বণ্টন প্রকাশ করা।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








