ওআইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সমন্বয় সভায় কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা মামলার আইনি তহবিলে সহায়তা এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে না পারা পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজ নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সমন্বয় সভায় এ আহ্বান জানান। ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা গাম্বিয়ার আইসিজে কার্যক্রম পরিচালনার আইনি তহবিলে সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্যও সহায়তা চাই।’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।’ তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে তিনি ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ওআইসির বৃহত্তর অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরে তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে আরো জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের মাত্র ২০ শতাংশ ছিল নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য, যা ২৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।’

ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) বাজেট ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়ে থাকে।’

২০২৬-২০৩৫ মেয়াদের প্রস্তাবিত ওআইসি কর্মপরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান জানান।

মানবাধিকার, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে ওআইসি অবজারভেটরির আরো শক্তিশালী ভূমিকার প্রতিও সমর্থন জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ওআইসির চেয়ার হিসেবে তুরস্কের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির এবং পরবর্তী চেয়ার হিসেবে ইরাককে স্বাগত জানান।

সূত্র : বাসস