বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, লংমার্চ, সরকার, নিরাপত্তা
প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা। নয়া দিগন্ত

১১ দলের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির খুলনার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ‘লংমার্চ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।’

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচির আওতায় খুলনা মহানগরীর ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সম্পর্কে অবহিত করতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। 

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় লংমার্চ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘লংমার্চ উপলক্ষে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরের (শিববাড়ী) পথসভায় লক্ষাধিক এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি জানান, লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন এক হাজার ২৬৬ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মহানগরীর এবং সোয়া ২টার দিকে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে পথসভায় আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হবেন। তিনি এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। আমরা আন্দোলন করছি, পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।’

তিনি বলেন, ‘খুলনার মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কখন কোথায় বোমা বিস্ফোরণ, গুলি কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।’

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দায়িত্ব সরকারের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার ব্যর্থ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে। এসব দাবিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আরো কর্মসূচি নেয়া হবে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সংসদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো: সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মো: রাশেদ, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান প্রমুখ।