কক্সবাজারে ফানুস উড়ানোর হিড়িক 
ফানুসের বর্ণিল আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে কক্সবাজারের রাতের আকাশ। নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী প্রবারণা উৎসব। প্রবারণাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের বৌদ্ধপল্লীগুলোতে ঘরে ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। গৌতম বুদ্ধ আড়াই হাজার বছর আগে তাব্বতিংস স্বর্গে তিন মাস বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় মর্ত্যে অবতরণ করেন। সেই স্মৃতিকে অমলিন রাখতেই বৌদ্ধ সম্প্রদায় এ উৎসব উদযাপন করে থাকে। ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে কল্পজাহাজ ভাসানোর মাধ্যমে।

Advertisement

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজারের আকাশে উড়তে থাকে একের পর এক ফানুস। কোনোটিতে আঁকা ছিল ধর্মীয় প্রতীক, আবার কোনোটিতে লেখা ছিল শান্তির বাণী। ফানুসের বর্ণিল আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে রাতের আকাশ।

এর আগে কক্সবাজারের রামুতে প্রবারণা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান।

রোববার রাতে রামু উপজেলার সীমা বিহার, কক্সবাজার পৌর শহরের অগ্গমেধা কেয়াংসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বৌদ্ধবিহারে ফানুস উৎসব শুরু হয়। এ সময় মোমবাতি ও ধূপকাঠি প্রজ্বালনসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দিনটি উদ্‌যাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। নতুন পোশাকে নানা বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে এই উৎসবে কক্সবাজারের হিন্দু, মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, তিন মাস বর্ষাবাস পালনের পর বড়ুয়া, মারমা ও রাখাইন সম্প্রদায় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ বা প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালন করে থাকে। আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে ফানুস উড়িয়ে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়। তাঁদের বিশ্বাস, একসঙ্গে ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে মানুষের দুঃখ-ক্লেশ দূর হয়।

দুই দিনের এই উৎসবকে ঘিরে বৌদ্ধবিহারগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে কল্পজাহাজ ভাসানোর মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।