
‘জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি শুধু জামায়াত বা ১১ দলীয় জোটের নয়, এটি দেশের সাধারণ মানুষের দাবি। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সাত দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী অনুষ্ঠান কুষ্টিয়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মোবারক হোসাইন। তবে স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের বিরোধিতা করে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, বড় জনসমাগমের জন্য কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা প্রশাসন। ফলে লংমার্চের সমাপনী অনুষ্ঠান কোথায় হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গ্রাম, শহর ও শহরতলিতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সড়ক ও অলিগলিতে ফেস্টুন-ব্যানার টাঙানো হয়েছে। লংমার্চে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
মোবারক হোসাইন জানান, ৩১ অক্টোবর সকালে ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চ শুরু হবে। পথে মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ এবং সর্বশেষ কুষ্টিয়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা: শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লংমার্চের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরোধিতা করে সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। কোনোভাবেই জিলা স্কুলের মাঠে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোবারক হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সব সময় অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে জামায়াত প্রশাসনের সাথে আলোচনা করছে। দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সাথে কথা বলেছেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণে বিভাগীয় কমিশনার সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। জেলা প্রশাসকও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।
তবে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামের মাঠ ব্যবহারের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ পর্যালোচনা করছে। পুলিশ সুপার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে এ বিষয়ে তাকে জানাবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, জামায়াত নেতাদের সাথে তার কথা হয়েছে। বর্তমানে জিলা স্কুলে পরীক্ষা চলায় এবং জিলা স্কুলের জায়গা সীমিত হওয়ায় বড় জনসমাগমের জন্য স্টেডিয়ামই বেশি উপযুক্ত। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময়কালে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল গফুর, এমপি মুফতি আমির হামজা ও এমপি আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে আলী মহসীন, সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








