বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। নয়া দিগন্ত

সাজেকে ঘুরতে গিয়েছিলেন ঢাকার পর্যটক দম্পতি আবুল মনসুর ও সুমাইয়া রহমান। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেখানে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় আটকা পড়েন এই দম্পতির মতো আরো অনেকেই। পরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তারা সেখান থেকে বেরিয়ে চলে আসেন বান্দরবানে।

Advertisement

এখন বান্দরবানে এসে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। সেইসাথে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের বান্দরবানে তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এই দম্পতির সাথে দেখা হয় শহরের কাছের পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলে। তারা জানান, ঢাকা থেকে বুধবার তারা ঘুরতে গিয়েছিলেন সাজেকে। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে আসায় এবং আটকা পড়ার আশঙ্কায় তারা বৃহস্পতিবারই সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা সোজা চলে আসেন বান্দরবানে।

এ রকম অসংখ্য পর্যটক এখন সাজেক থেকে ঘুরতে চলে এসেছেন বান্দরবানে। হাজারো পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত এখন বান্দরবান। এমনিতেই পূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, তার উপর সাজেকে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানকার কয়েক হাজার পর্যটকও এখন ভিড় জমিয়েছেন বান্দরবানে।

হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র, কোথাও তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। হোটেলে রুম না পেয়ে অনেক পর্যটক দিনযাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে। পর্যটকদের পদভারে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন রীতিমতো পর্যটকদের সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

এবার ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক বান্দরবান এসেছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, শহর ও আশপাশের প্রায় শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলোতে কোনো রুমই খালি নেই। অনেকে আগাম বুকিং না দিয়েই চলে এসেছেন বান্দরবানে। তার উপর সাজেকের ঘটনায় সেখানকার পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন বান্দরবানে। সবকিছু মিলে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি পর্যটকদের জন্য ব্যবস্থা করার কথা বলা হচ্ছে। যারা রুম পাচ্ছেন না তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: এস এম হাসান জানান, বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে কোনো সমস্যা না পড়েন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

এদিকে বান্দরবান শহরে গিয়ে দেখা হয় বেশ কয়েকজন পর্যটকের সাথে। চট্টগ্রামের পর্যটক আব্দুর রহিম জানান, তারা হঠাৎ বান্দরবান চলে এসেছেন। তারা কক্সবাজার যেতে চেয়েছিলেন, তবে বান্দরবান ঘুরে তারা কক্সবাজার যাবেন এমন পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বান্দরবানে তারা কোনো জায়গায় হোটেল-মোটেলে রুম পাননি। পরে একজনের মাধ্যমে একটি পাহাড়ি ঘরে তারা রাত্রিযাপন করেন।

এ রকম আরো বেশ কয়েকজন পর্যটকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, আগে থেকে রুম বুকিং না করলে তারাও সমস্যায় পড়তেন।

কক্সবাজার ও বান্দরবান কাছাকাছি হওয়ায় অনেক পর্যটকই এখন বেড়ানোর জন্য এই দু’টি জায়গা বেছে নিচ্ছেন।

এদিকে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে বান্দরবানে শুরু হচ্ছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমার রথযাত্রা উৎসব। এই উৎসব দেখতে অনেক পর্যটকই এখন বান্দরবানে। একদিকে পূজার দীর্ঘ ছুটি, অন্যদিকে প্রবারণা পূর্ণিমার রথযাত্রা উৎসব— সব মিলিয়ে এখন উৎসবমুখর বান্দরবান।