দৃর্বৃত্তের গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফ, গ্রেফতার আসামি অপূর্ব
দৃর্বৃত্তের গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফ, গ্রেফতার আসামি অপূর্ব। সংগৃহীত

আলোচিত সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম আসামি সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

Advertisement

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল আমিন ভূঁইয়া এই আদেশ দেন।

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। বেসরকারি আইপি টিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজের মাধ্যমে তিনি সীমান্তের কালোবাজারি, চোরাচালান, মাফিয়া চক্রের নানান অপরাধ নিয়ে লেখালেখি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করতেন। এসব কারণে সাংবাদিক আলিফ মাফিয়া চক্রের চক্ষুশূলে পরিণত হন।

আলিফের গ্রামের বাড়ি সীমান্তের কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। বৈবাহিক কারণে তিনি বিরিশিরি তেলুঞ্জিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী, শিশুসন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। 

জানা যায়, আলিফকে হত্যার জন্য ওই চক্রটি গত দুই মাস আগে দুর্গাপুর বালুঘাটে সশস্ত্র হামলা চালায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে লোকজন এসে পড়ায় সে সময় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেলুঞ্জিয়া বাজারের একটি মুদি দোকানে বসেছিলেন আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত সেখানে পৌঁছে পিস্তল দিয়ে পর পর পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।

পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলিফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ১৬ অক্টোবর আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর এলাকার মধ্যবাজার এলাকা থেকে আটক করা হয় ঘাতক অপূর্বকে। তিনি পৌর এলাকার উকিল পাড়ার শমশের আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুরে ছুটিতে আসা এসআই শাফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে অপূর্বের বিরুদ্ধে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম জানান, আলিফ হত্যা মামলার আসামি অপূর্বকে সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।