
দেশের অন্যতম আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা মামলাটির আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি মো: রেজাউল হক মামলাটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ দেশের আলোচিত কয়েকটি হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচিত এসব হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চলমান অবকাশকালীন ছুটি শেষে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসাথে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওইদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহরণের শিকার হন।
অপহৃত অন্য পাঁচজন ছিলেন— নজরুল ইসলামের সহযোগী তাজুল ইসলাম, স্বপন, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম।
অপহরণের তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও পরদিন আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ও এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।
তদন্তে র্যাব-১১-এর তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত হন।
২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল ওই সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত আলোচিত ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল হাইকোর্টে শুনানির জন্য আসে। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্য ১১ জনের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের পর সংশ্লিষ্ট আসামিরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








