
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জামালপুরের মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। উপজেলার সীমান্তবর্তী মানিকদার নৌকাঘাটে আকারভেদে ৪০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।
এদিকে যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও থামছে না ইলিশ ধরা ও বিক্রির তৎপরতা।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে ইলিশ সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও মাদারগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসাধু জেলেরা যমুনা নদীতে ইলিশ শিকার করছেন। পরে বিভিন্ন নৌঘাট ও নির্দিষ্ট পয়েন্টে এসব ইলিশ মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।
মানিকদার নৌকাঘাটে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রির এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার পরও ইলিশ ধরা ও বেচা-কেনা অব্যাহত থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ বিক্রির ঘাটগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদীতে নজরদারি জোরদার এবং অবৈধ বেচা-কেনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
ওই অঞ্চলের জেলে হামিদুল ও কদ্দুস জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) যখন অভিযান চলছে তখন আমরা ওইপারে ছিলাম। ইলিশ ধরে বিক্রি করি পেটের দায়ে। সরকার কী সুবিধা দিছে এ বিষয়ে আমরা জানি না। মাছের আকার অনুযায়ী ৪০০-১০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত ইলিশ বিক্রি করি।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: কামরুজ্জামান জানান, মাদারগঞ্জের সীমানার মধ্যে কোনো জেলে মাছ ধরলে এবং বিক্রি করলে ইলিশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ চলছে। এ সময়ের মধ্যে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি করা, খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বৃহস্পতিবার আমরা যমুনা নদীতে মাদারগঞ্জের সীমানায় অভিযান পরিচালনা করেছি এবং ৬০০ মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ ইলিশ ধরলে এবং বিক্রি করলে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








