জব্দকৃত সার
জব্দকৃত সার। নয়া দিগন্ত

নওগাঁর সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে পাচারের সময় ১২০ বস্তা ডিএপি সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। মালিকবিহীন আটকৃত সারগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়।

Advertisement

বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম।

জানা যায়, সদর উপজেলার দুবলহাটিতে অবস্থিত সারের অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ওই ডিলার পয়েন্টের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার গোডাউন থেকে দু’টি ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে ১২০ বস্তা ডিএপি সারবোঝাই করে রাজশাহীর উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়।

এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে গাড়ি দু’টি থামিয়ে দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নসিমনের চালকরা প্রথমে ওই ইউনিয়নের ইণ্টিতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বললেও পরে জেরার মুখে স্বীকার করে যে, সারগুলো রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

যেখানে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সার সঙ্কটে ভুগছে আর সেখানে স্থানীয় ডিলার অধিক মুনাফার লক্ষ্যে সার অন্য জেলায় পাচার করছে এমন খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি দু’টি আটক করে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশকে খবর দেয়।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দুবলহাটি-হাপানিয়া এলাকার কিছু মানুষ ফোনে সার পাচারের বিষয়টি জানায়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২০ বস্তা ডিএপি সার, দু’টি ভটভটি জব্দ করেন।

তিনি আরো জানান, যেহেতু সারগুলোর মালিককে পাওয়া যায়নি, তাই জব্দকৃত সার বুধবার ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়। আর বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল আমিন বলেন, শতাধিক বস্তা সার অন্য জেলায় পাচার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ৬০ বস্তা করে দু’টি গাড়িতে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার স্থানীয় জনতা আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে সারের ডিলার কিংবা তার কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে না পাওয়ার কারণে সার আইন-২০০৬ অনুসারে সারভর্তি ভটভটি দু’টি জব্দ করে দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হয়।

তিনি আরো বলেন, আজ বুধবার কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত ১২০ বস্তা সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওই ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়। আর সার বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।

ইউএনও বলেন, সার নিয়ে কোনো অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। আগামীতে কোনো ডিলার কিংবা সার ব্যবসায়ী সার নিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।