পড়া-খেলা উৎসব
ঝালকাঠি শহরের সরকারি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় পড়া-খেলা উৎসব। নয়া দিগন্ত

বই পড়ছে কেউ, কেউ গাইছে জাতীয় সংগীত। কেউ নাচছে, কেউ আবৃত্তি করছে কবিতা। আবার কেউ ব্যস্ত শরীরচর্চায়। শিক্ষার্থীদের এমন নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে মুখর হয়ে উঠেছে ঝালকাঠি শহরের সরকারি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং আনন্দের মাধ্যমে শেখার পরিবেশ তৈরিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করেছে ব্যতিক্রমী ‘পড়া-খেলা উৎসব-২০২৬’।

Advertisement

বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা রুম টু রিডের আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. বশির গাজী। তিনি বলেন, নানা কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান ও আবৃত্তিতে অংশ নিতে দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনার সুযোগ পেলে শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও কমতে পারে। জেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ চালু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ শিশুদের বিকাশে সহায়ক। বিদ্যালয়ে এ আয়োজন চালু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার এবং প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট দীনা ইয়াসমিন।

এ ছাড়া রুম টু রিডের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন, ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আল মামুন এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানান, পড়া ও খেলার সমন্বয়ে শিশুদের পঠনদক্ষতা বাড়ানো, অভিভাবকদের সন্তানদের বই পড়তে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় বই পড়ার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য।