ভাইরাস
আক্রান্ত রোগের ধরন। নয়া দিগন্ত

পটুখালীর মির্জাগঞ্জে হাত, পা ও মুখের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগ সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের বেশি হয়, তবে বড়দেরও হতে পারে। কারণ অসুস্থ হওয়ার একটি অন্যতম উপসর্গ হচ্ছে ভাইরাস। কয়েক দিন ধরে মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। 

Advertisement

পরিবারের একজনের হলে এ রোগে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে প্রথমে হালকা জ্বর ও গলার অস্বস্তি শুরু হয়। পরে মুখে ঘা, জিহ্বা, মাড়ি ও গালের ভেতরের অংশে ছোট ও যন্ত্রণাদায়ক ঘা বা ফোস্কা হয়। হাত ও পায়ে ফুসকুড়ি, হাতের তালু, পায়ের পাতা এবং কখনো নিতম্ব বা পায়ে লাল ছোট দানা বা জলভরা ফোস্কা দেখা দেয়। মুখের ঘা ব্যথার কারণে শিশু খেতে চায় না এবং কান্নাকাটি বা অস্বস্তি করে ও খাবারের অনিহা দেখা দেয়। এ রোগটি মূলত এন্টেরোভাইরাস। 

মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, আমার দুই বছরের শিশুর হঠাৎ করে জ্বর, বাচ্চাটির গলায়, ঘাড়ে ও হাতে ফোসকার মতো দেখা দেয়। এগুলো আস্তে আস্তে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তার বলেছেন, সব সময়ে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে ও প্যারাসিটমল খেতে। 
মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: সাইফুল ইসলাম রনি বলেন, ‘ডেঙ্গু, এলার্জি ও মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বেশির ভাগ মানুষ। এই জ্বরগুলোর সবই ভাইরাসজনিত। তবে গত কয়েকমাস ধরে হাত, পা ও মুখের রোগের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে এ রোগে আক্রান্ত ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকি। এর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই। জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল দেয়া যেতে পারে। তবে বেশি অসুস্থ বা শরীরের ভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে ব্যথানাশক ওষুধ দেয়া যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, লালা, ফোস্কার রস, মল কিংবা সংক্রামিত বস্তু বা পৃষ্ঠ স্পর্শ করার মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এ রোগে আক্রান্তের ব্যবহার্য আসবাবপত্র ও খেলনা, কাপড় জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। এটি সাধারণত ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।

মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (আরএমও) ডা: মু: উমর ফারুক জাবির বলেন, ‘হাত, পা ও মুখের রোগ দেখা দিলে বিশেষ করে শিশুদের হাত সব সময়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। ছয় মাস থেকে ১০ বছরের শিশুদের বেশী হয়। হাতের জীবানু মুখে চলে গেলে এর সংক্রামন বাড়তে পারে এবং শিশুটি বেশী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতলে এসে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ রোগে আক্রন্ত হলে ভয়ের কোনো কারন নেই। ডাক্তারের পরামর্শ ও পরিবারের লোকজন পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।’

মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য  কর্মকর্তা ডা: প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘মির্জাগঞ্জে হাসপাতালে ৫০শয্যা হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশী। ডেঙ্গু, ভাইরাস জ্বর, হাত, পা ও মুখের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই সময়ে প্রতিবছরই এ রোগ দেখা দেয়। প্রতিদিন আমি আউটডোর চেম্বার করি অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারনে। তার ওপর ওষুধ সঙ্কট রয়েছে, রয়েছে চিকিসা সরঞ্জামের অভাব। তারপরও আমাদের মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ রোগ হলে ভয়ের কোনো কারন নেই। আট-১০ দিনের মধ্যে রোগী ভালো হয়ে যায়।  হাত, পা ও মুখের রোগের বাহক হলো অপরিষ্কার হাত, মল, লালা, শ্লেষ্মা এবং ফোস্কা থেকে নিঃসৃত রস থেকে এ রোগ ছড়াতে পারে। সেজন্য রোগীকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।’