এনসিপি, মামলা, থানা
রোববার দিবাগত গভীর রাতে কুমারখালী থানায় এনসিপির নেতারা মামলার জন্য অবস্থান করেন। নয়া দিগন্ত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন মাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনার পর মামলা করতে গিয়ে ফের ‘মবের’ মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা। তাদের দাবি, মামলা করতে কুমারখালী থানায় অবস্থানকালে প্রায় দেড় থেকে দুই শ’ মানুষ থানার কম্পাউন্ডে ঢুকে তাদের গালাগাল ও হামলার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় গভীর রাত পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেও মামলা করতে না পেরে ফিরে আসেন তারা। 

Advertisement

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছেঁউড়িয়ার লালন মাজারের প্রধান ফটকের সামনে পাটওয়ারীর ওপর হামলা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মাজার পরিদর্শন ও জিয়ারত শেষে বের হওয়ার সময় একদল ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাটওয়ারী ও তার সাথে থাকা নেতাকর্মীরা মাজারের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে বাইরে অবস্থান নেয়া লোকজন তাদের ঘিরে রাখে। 

পরে পুলিশ গিয়ে মাজারের ভেতর থেকে পাটওয়ারীকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনে। মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে বহনকারী নুহা গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় গাড়িটির ক্ষতি হয়। পরে পাটওয়ারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। 

এ ঘটনার পর হামলার অভিযোগে মামলা করতে রোববার রাত ৯টার দিকে কুমারখালী থানায় যান এনসিপির জেলা নেতারা। তবে তাদের অভিযোগ, মামলা নেয়ার কথা বলার পরও পুলিশ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে। এরই মধ্যে থানার কম্পাউন্ডে একদল লোক ঢুকে তাদের উদ্দেশে গালাগাল শুরু করে এবং হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। 

রাত সাড়ে ৩টার দিকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এনসিপির জেলা কমিটির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, থানার ভেতরে অবস্থানকালে তাদের বিভিন্ন অশালীন শব্দ ব্যবহার করে গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় থেকে দুই শ’ মানুষ থানার কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়ে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাননি। 

এনসিপি কুষ্টিয়ার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা আরো অভিযোগ করেন, মামলা নেয়ার কথা বলার পরও পুলিশ সময়ক্ষেপণ করেছে। একইসাথে থানার ভেতরেই তাদের ওপর হামলার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘মামলা নিচ্ছেই না। পাশাপাশি আমাদের গায়ের ওপর এসে সরকারদলীয় দুর্বৃত্ত, যুবদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা চড়াও হওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’

এনসিপির নেতারা আরো অভিযোগ করেন, থানায় বসেই তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছেন। তাদের দাবি, একটি ঘটনার বিচার ও প্রতিকার চাইতে থানায় গিয়েও যদি নিরাপত্তা না মেলে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি আরো উদ্বেগজনক। 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন আজ সোমবার সকালে নয়া দিগন্তকে মোবাইলে বলেন, ‘গতকালের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তারা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও দেয়নি। অথচ এখন তারাই অভিযোগ করছে, পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি এবং অসহযোগিতা করেছে। এ অভিযোগ সঠিক নয়। তারা যে বিষয়টি নিয়ে এসেছিল, সেটি নিয়ে আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি এবং বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। তাদের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে তারা কোনো লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় মামলা করার প্রশ্নও ওঠে না।’