
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাজারের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সাথে থাকা নেতাকর্মীরা মাজারের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় বাইরে অবস্থান নেয়া একদল ব্যক্তি তাদের ঘিরে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের করে আনা হয়। তবে মাজার থেকে বের হওয়ার সময় তাকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কাজে রোববার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গিয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি ছেঁউড়িয়ার লালন শাহের মাজার পরিদর্শন ও জিয়ারত করতে যান। এ সময় তার সাথে কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন।
মাজারে কিছু সময় অবস্থান করে শিল্পীদের গান শোনার পর প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় একদল ব্যক্তি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সহযোগীদের নিয়ে দ্রুত মাজারের ভেতরে ফিরে যান। বাইরে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিদের গালিগালাজ করতেও শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এনসিপির ভেড়ামারা উপজেলা শাখার সদস্যসচিব সুমন জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে লালন শাহের মাজার পরিদর্শন ও জিয়ারত করতে এসেছিলেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় সফর ছিল না। গান শোনার পর মাজার থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপি কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক সুলতান মারুফ তালহা বলেন, তিনি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঘটনা শুনে নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, গোলযোগের খবর পেয়ে তারা দ্রুত মাজারের ভেতরে যান। সেখানে এনসিপি নেতাকে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে মাজার থেকে বের করে আনা হয়।
এদিকে মাজারে উপস্থিত এক লালনশিল্পী জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেখানে অবস্থানকালে তারা কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। তবে তারা বেশিক্ষণ সেখানে ছিলেন না এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
হামলার কারণ এবং কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালনমাজার থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কোনো মন্তব্য না করে গাড়িতে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুলিশের নিরাপত্তায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনো দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেনি।
এনসিপি কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক সুলতান মারুফ তালহা বলেন, তিনি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঘটনা শুনে নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, জেলা নেতৃবৃন্দ কুমারখালী থানায় গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরবেন। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, তাদের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিরাপদে আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাতে চাননি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সময় বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “এনসিপি নেতা কুমারখালীর দিকে আসেননি। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।”
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








