এলপিজি
এলপিজি। নয়া দিগন্ত

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এতে বাড়তি দামের চাপে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

Advertisement

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত দামের সাথে বাস্তব বাজারদরের বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। কয়েকটি দোকানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে সব দোকানে একই দাম নেয়া হচ্ছে না। কোথাও দাম কিছুটা কম, আবার কোথাও সিলিন্ডারের সাথে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ করেন ক্রেতারা।

বাজারে সিলিন্ডার কিনতে আসা অনেক ক্রেতাকেই প্রথমে দাম জানতে দেখা যায়। সরকারি নির্ধারিত দামের কথা জানিয়ে কেউ কেউ দরদাম করলেও রান্নার প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বেশি দামেই সিলিন্ডার কিনছেন। এতে সংসারের মাসিক খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা। অথচ উজিরপুরের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হারতা ইউনিয়ন থেকে সিলিন্ডার কিনতে আসা নিখিল বলেন, ‘সরকারি দাম শুনেছি এক হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু দোকানে গেলে ওই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

শোলক ইউনিয়নের ধামুরা বন্দর থেকে গ্যাসের বোতল কিনতে আসা সোহাগ খান বলেন, ‘গ্যাস নিতে এসে দেখি দাম অনেক বেশি।’ 

দোকানিরা বলেন, তারাও নাকি বেশি দামে কিনেছেন। কিন্তু ভোক্তা হিসেবে আমাদেরই শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।

শিকারপুর বাজারের সামিন বলেন, ‘সরকারি দামে গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। কয়েক জায়গায় খোঁজ নিয়েও কম দামে পাইনি। রান্নার গ্যাস হওয়ায় প্রয়োজনের কারণে বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।’

বিক্রেতাদের কয়েকজন দাবি করেন, তারা ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। এর সাথে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যার কারণে তাদের বিক্রয়মূল্য বাড়ছে। তবে ভোক্তাদের প্রশ্ন, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার কথা বলা হলেও খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না কেন।

এলপিজি নিয়ে এমন পরিস্থিতির মধ্যে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) জানিয়েছে, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। ১ অক্টোবর দেয়া সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানি হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন।

এলওএবি সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে। বেশি দামে বিক্রি এবং নিয়মবহির্ভাবে মজুতের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি মনিটর করার নির্দেশ দেন। কোথাও কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ‘এলপিজি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বাজারে যাতে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ভোক্তাদের অভিযোগ, রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজির দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এত বেশি হওয়ায় সংসারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।