
বর্জ্য আর বোঝা নয়; পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বর্জ্যই হতে পারে বিদ্যুৎ, জৈব সার ও সম্পদের উৎস। কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ফেকাল স্লাজ থেকে জৈব সার তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ওয়েস্ট, ক্যাম্প-১৭, ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) ও ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট টাওয়ার এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
প্রথমে ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-৬ ব্লকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই) পরিচালিত Solid Waste Management (SWM), Plastic Waste to Energy ও Fecal Sludge Management (FSM) প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যাম্প থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। উৎপাদিত সার রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোওয়াট, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা পরিচালিত হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৮ আগস্ট।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় বর্জ্যকে কিভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।’
এরপর প্রতিমন্ত্রী যান ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকার এফ ব্লকে। সেখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ডিপিএইচই পরিচালিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে Solid Waste Management, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, Fecal Sludge Management, বর্জ্য থেকে জৈব সার ও কয়লা প্রস্তুত ও ডিস্টিলড ওয়াটার উৎপাদন।
তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়। একই বছরের নভেম্বরে শুরু হয় এর কার্যক্রম। তবে প্রায় আট মাস ধরে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মূলত প্রকল্প পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হতো। একইসাথে প্রকল্পটির পরিচালন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকায় একটি সফেদা, একটি আতা ও একটি জামরুল গাছের চারা রোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরে তিনি ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট টাওয়ার এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানকার কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) আবু সালেহ মো: ওবাইদুল্লাহ, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ও উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম কাইছার নুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।









