
খুলনায় সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত চিংড়ি পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ তার স্ত্রী টিকলি মাক্কি রানীকে (৩০) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে রিফাত তালুকদার (২২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বলেন, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, কারাগারে বন্দি নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী চিংড়ি পলাশের গোবরচাকার বাড়িতে যশোর থেকে আসা ২০-২২ বছর বয়সী কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বাড়ি থেকে রিফাত তালুকদার নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই বাড়ির একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশী পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও ৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার রিফাত তালুকদার যশোর শহরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মো: ইদ্রিস তালুকদার ও নাসিমা বেগমের ছেলে। রিফাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চিংড়ি পলাশের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ তার স্ত্রী টিকলি মাক্কি রানীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বামী পলাশ গ্রেফতার হওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরপর সেখানে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। স্বামীর সংসারে আর তিনি ফিরতে চাননি। পরে তার ভাশুর স্বামীর জামিনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে খুলনায় নিয়ে আসেন। এর সাথে সে জড়িত নয়। পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোর থেকে চিংড়ি পলাশকে গ্রেফতার করে র্যাব। এখন সে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানায় আটটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে।








