হাম, মৃত্যু, শিশু
হামে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে মানচিত্র

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরো ১৫৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী চার মাস বয়সী আদিয়ান সিলেট সদর উপজেলার ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ১০ মাস বয়সী ইয়াসিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫৫ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬৬ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ফেঞ্চুগঞ্জে দুজন, কোম্পানীগঞ্জে দুজন, গোলাপগঞ্জে ১৮ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ছয়জন ভর্তি হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীসহ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৩২ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮৫ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে পাঁচজন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে ২২ জন, কোম্পানীগঞ্জে ছয়জন, বিশ্বনাথে চারজন, বিয়ানীবাজারে আটজন, গোলাপগঞ্জে ২০ জন, ফেঞ্চুগঞ্জে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬০ জন, ধর্মপাশায় একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নতুন দুই মৃত্যুতে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ জন। এর সাথে নিশ্চিত হাম রোগে মারা যাওয়া ১০ জন যোগ হয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে। জেলা হিসেবে সিলেটে ৬৯, হবিগঞ্জে ২৫, মৌলভীবাজারে ১৫ ও সুনামগঞ্জে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৮৫, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ ও সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত না হলেও সন্দেহজনক হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির চাপ অব্যাহত রয়েছে।