
সিলেটে হামে ফের আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পাঁচ মাস বয়সী শিশু আয়শা মৃত্যুবরণ করে। এনিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৪ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ জনে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
মৃত আয়েশার পরিবার বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৬৪ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭০ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে ছয়জন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬০০ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪০ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৭৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাতজন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে ২৭ জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, বিশ্বনাথে চারজন, বিয়ানীবাজারে ১০ জন, গোলাপগঞ্জে চারজন, ফেঞ্চুগঞ্জে দুইজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬৮ জন, ধর্মপাশায় একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নতুন করে একজনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬৩ জন। এর সাথে নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু যোগ হয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৭৩ জনে। জেলা হিসেবে সিলেটে ৬৮, হবিগঞ্জে ২৪, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৮৫, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত রোগী শনাক্ত না হলেও সন্দেহজনক রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির চাপ অব্যাহত রয়েছে।








