ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের একটি কোর্সের উত্তরপত্র উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে আটকে আছে শিক্ষার্থীদের ফল। 

Advertisement

উত্তরপত্রগুলো বহিরাগত পরীক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের কাছে দেয়ার পর থেকে সেগুলোর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগীয় শিক্ষকরা। এদিকে ফল প্রকাশ করতে না পারায় সেশনটির পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষাও স্থগিত করেছে বিভাগ।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ওই সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ২ মে শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। ছয়টি কোর্সের মধ্যে পাঁচটির মূল্যায়ন নম্বর পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে জমা পড়লেও ২১০৭ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র না পাওয়ায় ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, গত ১১ মে কোর্সটির উত্তরপত্র পান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম। ২০ মে মূল্যায়ন শেষে তিনি খাতাগুলো বিভাগে জমা দেন। পরে বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী ৬০টির বেশি খাতার বান্ডিল বহিরাগত পরীক্ষক ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের কাছে দেন। এরপর থেকেই খাতাগুলোর হদিস নেই বলে দাবি বিভাগীয় শিক্ষকদের।

এদিকে প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ না হলেও বিভাগ ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে। পরে পরীক্ষার দুই দিন আগে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

খাতা হারানোর ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিভাগ প্রফেসর ড. শরিফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলমকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। কমিটির সদস্য ছিলেন প্রফেসর ড. শরিফুল ইসলাম ও প্রফেসর ড. এম এম শরিফুল বারী।

বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. তালুকদার লোকমান হাকিম বলেন, ‘খাতা হারানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে সভাপতির কাছে নম্বর জমা না হলে তো ফল প্রকাশ করা যায় না। এ বিষয়ে বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্ত কমিটি আজ প্রতিবেদনও দিয়েছে বলে শুনেছি। তদন্তে কী পাওয়া গেছে, সেটা তারা ভালো বলতে পারবেন। আমি চাইব দ্রুত ফল প্রকাশ করা হোক।’

বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী বলেন, ‘বিভাগের খাতাপত্র আমিই দেখি। সেদিনের পরীক্ষার খাতা প্রো-ভিসি স্যারের কাছে পৌঁছাতে বলা হলে, আমি স্যারের টেবিলেই খাতাগুলো রেখেছিলাম। এরপর থেকে আর জানি না।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো: শাহাবুল আলম বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক হিসেবে খাতাগুলো মূল্যায়ন করে আমি জমা দেয়ার পর তার (প্রো-ভিসি) খাতা দেখার কথা ছিল। তবে তিনি খাতাগুলো পাননি বলে জানিয়েছেন।’

তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিধিসম্মতভাবে সিলগালা করেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর কন্ট্রোলার অফিসে জমা দিয়েছি। তদন্তে যা উঠে এসেছে, সেটাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

অভিযোগের বিষয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি খাতাগুলো দেখার জন্য চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে খাতা আসেনি।’