
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভাড়াকৃত বাস ‘শানে খোদা’র চাপায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী লিখন ইসলামের বাবা মনোয়ার হোসেন (৪৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ফেরার পথে লক্ষ্মীপুর বাজারসংলগ্ন এগারো মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ভাড়াকৃত বাস ‘শানে খোদা’ দ্রুতগতিতে চলার সময় সড়ক বিভাজকের উল্টো পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে মোটরসাইকেলে আসা মনোয়ার হোসেনকে বাসটি ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটি ফেলে চালক পালিয়ে যান। পরে হাইওয়ে পুলিশ বাসটি জব্দ করে।
নিহত মনোয়ার হোসেন আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিখন ইসলামের বাবা। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুরের দাইখালী ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
চৌড়হাস হাইওয়ে পুলিশের এসআই মাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করা হয় এবং বাসচালকের বিরুদ্ধে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি ও ভুল পাশ দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া চালক হিরকের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা নিহতের পরিবারকে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, শিক্ষার্থী লিখনের শিক্ষাজীবনের যাবতীয় দায়িত্ব প্রশাসনের নেয়া এবং অভিযুক্ত চালকের বিচারসহ ছয় দফা দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসসংলগ্ন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার, চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সাথে যৌথ উদ্যোগ, পরিবহন সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য স্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, চালকদের লাইসেন্স যাচাই ও নিয়মিত ডোপ টেস্ট এবং ভাড়াকৃত বাসের গতিসীমা লঙ্ঘন বা উল্টোপথে চলাচলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিল ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
ভিসি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। এ ঘটনায় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে সদস্যসচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ভাড়াকৃত বাসের দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এ বিষয়ে বাসমালিক সমিতির সভাপতির সাথে কথা হয়েছে। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তাই বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্তে চালকের দায় প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।








