রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন ভবন
প্রশাসন ভবনের সামনে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। নয়া দিগন্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থী সাপের দংশনে আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘জোহা হলে সাপের রাজ, প্রভোস্ট দিয়ে হয় না কাজ’, ‘আমার ভাই রামেকে, প্রভোস্ট কেন খামারে’, ‘হল প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানবো না’, ‘সাপের বিষে আমরা কাত, প্রশাসন ধন্যবাদ’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো: রাকিবুল ইসলাম জানান, জানালার পাশে জঙ্গল বড় হয়ে যাওয়ায় তা পরিষ্কারের জন্য তারা তিন-চারবার অভিযোগ খাতায় লিখেছেন। এছাড়া প্রায় দুই মাস আগে থেকে জানালায় নেট লাগানোর জন্য ছয়-সাতবার হল প্রাধ্যক্ষের কাছে গিয়েছেন। তবে প্রতিবারই তাদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গণরুমের বিভিন্ন সমস্যা ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বললে প্রাধ্যক্ষ বলেন, কচ্ছপের গতিতে কাজ চলছে, এমনেই চলবে। তোমরা থাকতে পারলে থাক, না হলে হল থেকে বের হয়ে যাও।

এ সময় হল সংসদের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘হলটি কিছুটা সাইডে হওয়ায় চারপাশে প্রচুর জঙ্গল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষাকালে বাইরে থেকে হলে সাপ ঢুকে পড়ে। এরই মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে সাপে কামড় দিয়েছে ও মশারির ওপরও সাপ পাওয়া গেছে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়ার পর আজ প্রায় ১০ জন কর্মচারী পাঠিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করা হয়েছে। অথচ এর আগে নিয়মিতভাবে হল পরিষ্কার করা হয়নি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের দীর্ঘদিনের তিনটি প্রধান দাবি হলো—হলে সেনেট স্থাপন, ঘাস কাটার মেশিন সরবরাহ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সুইসগেট নির্মাণ।’

এর আগে, রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামের পায়ে কালাচ সাপ দংশন করে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার পর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা হলের পরিচ্ছন্নতা, সাপের উপদ্রব প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।