
জাপানে সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতির হার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এতে সুদের হার আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাজা খাদ্যপণ্যের অস্থিতিশীল মূল্য বাদ দিলে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের এই হার বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ফলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরো বেড়েছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্য বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির অন্তর্নিহিত প্রবণতা আবারো জাপান ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে উঠে আসায় মুদ্রানীতি আরো কঠোর করার পক্ষে জোরালো ভিত্তি রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়াতে পারে। এতে ডিসেম্বরে আবারো সুদের হার বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে।’
মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলায় জাপান ব্যাংক গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সুদের হার বাড়িয়েছিল। বিশ্বজুড়ে অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো জাপানও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেয়। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ চাপ আরো তীব্র হয়েছে।
এদিকে, জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দুর্বলতার কারণেও আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাড়িভাড়া এবং মোটরযান-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্যের মতে, বাড়িভাড়ার মূল্যস্ফীতি প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমান হয়েছে।
তবে পেট্রোল ও বিদ্যুতের বিলে সরকারি সহায়তা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমিয়েছে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
খাদ্য ও জ্বালানি—উভয় খাতের মূল্য বাদ দিয়ে হিসাব করলেও সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের এই হার বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের শেষ দিকে গৃহীত বড় ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ এবং জ্বালানির ওপর ব্যাপক করছাড়।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আগের দুই পূর্বসূরি মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে রাজনৈতিকভাবে বিপাকে পড়েছিলেন।
সরকার জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগকর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হবে।
তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ১০ লাখ কোটি ইয়েন (ছয় হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার) কমতে পারে।
এতে জাপানের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। দেশটির মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঋণ-জিডিপি অনুপাতগুলোর একটি।
প্রাকৃতিক সম্পদে সীমিত জাপান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আমদানি করা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








