ইরান, নতুন করে হামলার প্রস্তুতি, পেন্টাগন, শীর্ষ পরিকল্পনাবি, বরখাস্ত,
পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাবিদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া। গালফ নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাবিদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেছেন। তবে তাঁকে সরিয়ে দেয়ার কোনো কারণ জানানো হয়নি। ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সময় সামরিক নেতৃত্বে আবারো বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো।

Advertisement

দুবাই থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ (২৯ অক্টোবর) জানায়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান ছিলেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিলভিয়া। সামরিক মহলে এই পদ ‘জে-৫’ নামে পরিচিত। হেগসেথের আমলে এই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া দ্বিতীয় জেনারেল তিনি। তাঁর আগে দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগিকে গত বছরের অক্টোবরে অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সিলভিয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাঁকে কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে আটলান্টিক সাময়িকী এ খবর প্রকাশ করে।

জয়েন্ট স্টাফের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘দেশের জন্য ৩২ বছরের বিশিষ্ট সেবার জন্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, জয়েন্ট স্টাফ ও জয়েন্ট ফোর্স লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। তাঁর ও তাঁর পরিবারের মঙ্গল কামনা করছি।’

সাধারণত জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়ার দায়িত্ব জে-৫ বিভাগের। ইসরাইলের সঙ্গে আট মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ট্রাম্প বারবার নতুন করে হামলার কথা বলেছেন। তাঁর ঘোষণা, ইরানে যুদ্ধের কাজ ‘শেষ করবেন’। আগামী সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন হামলার পথও খোলা রেখেছেন তিনি।

দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর ইরানে আবারো সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে তাদের। তবে নতুন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এদিকে তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি এবং অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।

সিলভিয়া এর আগে কেন্টাকির ফোর্ট ক্যাম্পবেলে ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। পরে জয়েন্ট স্টাফে যোগ দেন। এর আগে জে-৫ বিভাগের উপপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

হেগসেথের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রায় দুই ডজন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন, অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন অথবা দায়িত্ব ছেড়েছেন। তাঁদের প্রায় কারো ক্ষেত্রেই পেন্টাগন প্রকাশ্যে কারণ জানায়নি। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর বেসামরিক সচিবসহ সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও এই পরিবর্তনের শিকার হয়েছেন।

বুধবার রাতে এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো বার্তার জবাব দেয়নি পেন্টাগন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে মেরিন কোর ঘাঁটিতে তরুণ কর্মকর্তা ও তালিকাভুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার সময় হেগসেথ বলেন, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগে নির্ধারিত হ্রাসের পরিমাণ দ্বিগুণ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে তা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রায় ৮০০টি পদ রয়েছে।

হেগসেথ বলেন, ‘আমি একে জবাবদিহি বলি। এই পদক্ষেপ অনেক আগেই নেয়া উচিত ছিল।’

তবে কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য জেনারেলদের পদ কমানোর এই উদ্যোগকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লেগে যাবে।

হেগসেথের সমালোচক ও সাবেক নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান চালক সিনেটর মার্ক কেলি গত মাসে বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর মনে গভীর ক্ষোভ রয়েছে বলে মনে হয়। তিনি সামরিক বাহিনীর একটি প্রজন্মের অসাধারণ নেতাদের সরিয়ে দিচ্ছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরেকটি প্রজন্ম লেগে যাবে।’