ওপেনএআই,  আড়িপাতা, আটক, যোগাযোগ,  সৌদি রাজপরিবার,
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

ওপেনএআইয়ে আড়িপাতার যন্ত্র বসানোর দায়ে গ্রেফতার সাবেক সৌদি প্রকৌশলী আবদুর রহমান আলফোজান সৌদি রাজপরিবারের এক সদস্যের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। সৌদি আরবের নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগে যোগ দিতে তাকে বারবার উৎসাহ দেয়া হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে রিয়াদে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই আড়িপাতার যন্ত্র বসানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Advertisement

পাকিস্তানের সিবিএস নিউজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জানায়, মার্কিন কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেছেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপে সৌদি রাজপরিবারের ওই সদস্যের সাথে আলফোজানের যোগাযোগ ছিল। গত ৫ অক্টোবরও তাদের কথা হয়। সৌদি আরবের ওই সদস্য তাকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সৌদি আরবের আপনাকে বেশি প্রয়োজন!’ আলফোজান সৌদি উদ্যোগে যোগ দিতে সম্মতি জানালেও বলেন, তার শেয়ারের মালিকানা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরি ছাড়বেন না।

গত ৯ অক্টোবর আলফোজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর তিন দিন পর স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে সান ফ্রান্সিসকো থেকে একমুখী ফ্লাইটে রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল তার। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, পরদিন তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান সৌদি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার কেনা বিজনেস ক্লাসের টিকিটে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন।

আলফোজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ওপেনএআইয়ের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সম্মেলনকক্ষে টেলিভিশনের পেছনে ইউএসবি পোর্টে গোপনে শব্দ ধারণের যন্ত্র বসান। যন্ত্রটি এনক্রিপ্ট করা ছিল। এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট ব্যবহার করে যন্ত্রটির কার্যক্ষমতা বাড়ানোর উপায়ও খুঁজেছিলেন তিনি। তদন্তকারীরা তার ফোনে অন্য একটি গোপন রেকর্ডিং যন্ত্রের ছবিও পেয়েছেন। কৌঁসুলিদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারত।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেয়া আলফোজান বছরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার বেতন পেতেন। যোগ দেয়ার সময় তাকে ২২ লাখ ডলারের শেয়ার দেয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরিচ্যুত করে। সোমবার আদালত তাকে গৃহবন্দী রাখার শর্তে মুক্তি দেয়ার আবেদন নাকচ করেন। কৌঁসুলিরা আশঙ্কা করছেন, তার সম্পদ, প্রভাবশালী যোগাযোগ এবং সৌদি কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সহায়তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালাতে পারেন। আগামী মাসে তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।