বিদেশী নাগরিক, আটক, অভিবাসন, মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ায় ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশী নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১০ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশী নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।

Advertisement

এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশী নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অব্যাহত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি রোববার (১৮ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশীর কাগজপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।’

লোকমান এফেন্দি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে যেসব অপরাধ বেশি শনাক্ত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহার।’

তিনি জানান, অভিযানে আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ, সেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মস্থলে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এসব ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। কিন্তু ধারাবাহিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার, অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ৪১টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। 

মালয়েশিয়ায় একদিকে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের রাখার অবকাঠামো এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দীর চাপ মোকাবেলা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।